[email protected] শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

বাংলাদেশসহ ১৪ দেশকে নিয়ে নতুন সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোট গড়ল সৌদি আরব

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩১ জুলাই ২০২৬ ১০:৪৫ এএম

সংগৃহীত ছবি

লোহিত সাগর, বাব আল-মান্দেব প্রণালি এবং এডেন উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা জোরদারে নতুন একটি বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব।

সৌদির নেতৃত্বে গঠিত এই জোটে বাংলাদেশসহ মোট ১৪টি দেশ অংশ নিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স অ্যালায়েন্স নামে এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সামুদ্রিক নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথকে নিরাপদ রাখা।

জোটের সদস্য দেশগুলোর মতে, ভারত মহাসাগর ও ভূমধ্যসাগরকে সংযুক্তকারী এই কৌশলগত নৌপথে অবাধ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে সুরক্ষিত রাখাই হবে তাদের প্রধান অগ্রাধিকার।

বিশ্লেষকদের ধারণা, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির পরিপ্রেক্ষিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর হামলার কারণে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব রুটে যে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, সেটিও জোট গঠনের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সৌদি আরব জানিয়েছে, জোট গঠন উপলক্ষে আয়োজিত বৈঠকে আমন্ত্রিত ৫১ দেশের মধ্যে ৪৩টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) একটি প্রতিনিধিদলও উপস্থিত ছিল।

তবে ইইউর বিদ্যমান সামুদ্রিক নিরাপত্তা মিশনের সঙ্গে নতুন জোটের কার্যক্রম কীভাবে সমন্বয় করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

সৌদি আরব ছাড়াও জোটে রয়েছে তুরস্ক, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, জর্ডান, মিসর, পাকিস্তান, জিবুতি, সোমালিয়া, বাংলাদেশ, ইয়েমেন, সুদান ও কোমোরোস।

অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ওমান এখনো এই জোটে যোগ দেয়নি। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় জাতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্নের পর আগ্রহী অন্যান্য দেশও ভবিষ্যতে জোটে অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, সদস্য দেশগুলোর মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, যৌথ পরিকল্পনা, সমন্বিত সামরিক মহড়া এবং প্রয়োজনীয় সামুদ্রিক অভিযান পরিচালনায় সহযোগিতা করা হবে।

তবে কোন দেশ কতসংখ্যক যুদ্ধজাহাজ বা বিমান দেবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

সৌদি আরব দাবি করেছে, এই জোট সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক উদ্দেশ্যে গঠন করা হয়েছে এবং এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত নয়।

জোটের সদর দপ্তর সৌদি আরবে স্থাপন করা হবে, যদিও এর সুনির্দিষ্ট অবস্থান এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধের ঘোষণা দেয়, যার প্রভাব লোহিত সাগর দিয়ে তেল পরিবহণে পড়ে।

একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে বিকল্প রুট হিসেবে সৌদি আরব পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনের মাধ্যমে ইয়ানবু বন্দরে তেল পরিবহণ অব্যাহত রেখেছে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর