আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের আওতায় সৌদি আরব ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক
করতে রাজি না হলে দেশটির সঙ্গে কোনো বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তি বাস্তবায়ন করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়।
ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, বেসামরিক পারমাণবিক প্রস্তাবটি অনুমোদন পেতে হলে সৌদি আরবকে অবশ্যই আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দিতে হবে। তিনি এই চুক্তিকে ইতোমধ্যে সফল উল্লেখ করে বলেন, এখন রিয়াদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সঠিক সময় এসেছে।
এর আগে গত বুধবার ওয়াশিংটন ও রিয়াদের মধ্যে বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচির অবকাঠামো গঠনের লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। কিন্তু এই চুক্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন শর্ত আরোপ করে বলেন, পারমাণবিক সুবিধা পেতে হলে সৌদি আরবকে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে। পরবর্তীতে শুক্রবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সামনেও তিনি নিজের এই কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও জানান, চুক্তিটি চূড়ান্ত করার সময় তিনি দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইটের সঙ্গে এই বিষয়ে আলাদা করে আলোচনা করেননি। তবে এটি আগে থেকেই সবার জানা ছিল এবং ক্রিস রাইট ও সৌদি আরব উভয় পক্ষই শর্তটি সম্পর্কে পূর্ণ অবগত ছিল বলে তিনি দাবি করেন।
পারমাণবিক চুক্তির সঙ্গে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে অন্তর্ভুক্তির এই শর্ত জুড়ে দেওয়া নিয়ে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
তবে রিয়াদের দীর্ঘদিনের গৃহীত পলিসি অনুযায়ী, একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের সুস্পষ্ট পথ সুগম না হওয়া পর্যন্ত তারা ইসরায়েলকে কূটনৈতিক স্বীকৃতি প্রদান করবে না। অন্যদিকে, ইসরায়েলের বর্তমান প্রশাসন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাবটির তীব্র বিরোধিতা করে আসছে।
প্রাথমিকভাবে ট্রাম্প প্রশাসন ইসরায়েলের নাম উল্লেখ না করেই এই পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তিকে দুই দেশের অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য লাভজনক এক মাইলফলক হিসেবে উপস্থাপন করেছিল। চুক্তি বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়ে মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী এক বিবৃতিতে বলেন, এই পদক্ষেপ দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক শক্তিশালী করবে, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনবে এবং আন্তর্জাতিক সহযোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
ট্রাম্প প্রশাসন এই উদ্যোগকে ‘বহু বিলিয়ন ডলারের দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব’ হিসেবে অভিহিত করেছে। চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হওয়ার আগে চূড়ান্ত পর্যালোচনার জন্য এখন মার্কিন কংগ্রেসে পেশ করা হবে।
যদিও চুক্তির পূর্ণাঙ্গ খসড়া এখনো জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়নি, তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এর অধীনে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পারমাণবিক জ্বালানি আমদানির পাশাপাশি সৌদির নিজ ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ রাখা হতে পারে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পরে বিষয়টি স্পষ্ট করে জানান, অস্ত্র তৈরি বা সামরিক কাজে ব্যবহার যোগ্য কোনো উপাদান সমৃদ্ধকরণের অনুমতি দেওয়া হবে না।
প্রস্তাবিত এই দ্বিপাক্ষিক পারমাণবিক চুক্তিটির মেয়াদ ৩০ বছর হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে রিয়াদকে উন্নত মার্কিন প্রযুক্তি ও দক্ষতা প্রদান করা হবে।
সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মতে, এই চুক্তিটি দুই বন্ধুপ্রতীম দেশের পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষা করে জ্বালানির উৎস বৈচিত্র্যময় করবে, আধুনিক প্রযুক্তির বিকাশ ঘটাবে এবং নতুন বিনিয়োগ ও সহযোগিতার দুয়ার উন্মোচন করবে।
এসআর