সৌদি আরবকে সীমিত পরিসরে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন।
তবে এ বিষয়ে প্রস্তাবিত পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন–এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে ২০২৫ সালের অক্টোবরে এ বিষয়ে আলোচনা শেষ হলেও আনুষ্ঠানিক চুক্তি এখনো স্বাক্ষরিত হয়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে চুক্তির অনুমোদন প্রক্রিয়া ধীরগতিতে এগোচ্ছে। পাশাপাশি মার্কিন কংগ্রেসে সম্ভাব্য বিরোধিতার বিষয়টিও প্রশাসনের বিবেচনায় রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা যায়, চলতি বছরের শুরুতে ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসের কয়েকজন সদস্যকে প্রস্তাবিত চুক্তির মূল বিষয়গুলো সম্পর্কে অবহিত করে। সেখানে সৌদি আরবকে নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে নিজস্ব ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা প্লুটোনিয়াম প্রক্রিয়াকরণের সীমিত সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এমন ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের অতীতের পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তিগুলোর তুলনায় ব্যতিক্রমী।
যদিও সম্ভাব্য সমঝোতায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণ ও শর্ত আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে, তবে সেসব শর্তের বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। জানা গেছে, পারমাণবিক প্রযুক্তি বা সংশ্লিষ্ট উপকরণ হস্তান্তরের প্রতিটি ধাপের জন্য পৃথক অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
এদিকে প্রস্তাবিত চুক্তি নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন কয়েকজন বিশেষজ্ঞ ও মার্কিন কংগ্রেস সদস্য। তাদের মতে, এটি ২০০৯ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাক্ষরিত পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তির তুলনায় ভিন্নধর্মী। ওই চুক্তিতে আমিরাত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও প্লুটোনিয়াম পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ থেকে বিরত থাকার অঙ্গীকার করেছিল এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) অতিরিক্ত তদারকি মেনে নিয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবকে এ ধরনের সক্ষমতা দেওয়া হলে মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক ভারসাম্য ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর নতুন প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিদ্যমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
এসআর