[email protected] সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
২২ আষাঢ় ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্রে সুপার টাইফুন ‘বাভি’র আঘাত: ২৯০ কিমি বেগে তাণ্ডব, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬ জুলাই ২০২৬ ৯:২০ এএম

সংগৃহীত ছবি

ঘণ্টায় প্রায় ২৯০ কিলোমিটার বেগের ভয়ংকর বাতাস ও প্রবল বৃষ্টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত

 মহাসাগরীয় দ্বীপাঞ্চল গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জে আঘাত হেনেছে সুপার টাইফুন ‘বাভি’। অত্যন্ত বিপজ্জনক এই ঝড়ের কারণে উপূকলীয় এলাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং সমুদ্রে প্রায় ১১ মিটার (৩৬ ফুট) উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ।

​বাতাসের গতি ও সর্বোচ্চ সতর্কতা

​যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা (এনডব্লিউএস) জানিয়েছে, সুপার টাইফুনটি মূল বাতাসের গতিবেগ ২৯০ কিলোমিটার এবং দমকা হাওয়ার আকারে সর্বোচ্চ ৩৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত গতি নিয়ে দ্বীপপুঞ্জ অতিক্রম করছে। এর ধ্বংসক্ষমতা ক্যাটাগরি-৪ বা ক্যাটাগরি-৫ হারিকেনের সমান। মার্কিন সামরিক বাহিনীর জয়েন্ট টাইফুন ওয়ার্নিং সেন্টার (জেটিডব্লিউসি) ঝড়টিকে 'সুপার টাইফুন' হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে। মূলত জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এমন অতি-শক্তিশালী ঝড়ের প্রকোপ বাড়ছে বলে মত বিজ্ঞানীদের।

​লণ্ডভণ্ড জনপদ ও রোটা দ্বীপের পরিস্থিতি

​টাইফুন ‘বাভি’ গুয়াম থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের সবচেয়ে দক্ষিণের জনবসতিপূর্ণ দ্বীপ 'রোটা'র ওপর দিয়ে সরাসরি অতিক্রম করেছে। রোটার মেয়র কার্যালয় জানিয়েছে, প্রবল বাতাস ও বন্যার কারণে সেখানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পরিস্থিতি এখন এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ যে সাধারণ মানুষকে ঘরের বাইরে বের না হতে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রোটার উত্তরে অবস্থিত সাইপান দ্বীপের বিমানবন্দরে ঘণ্টায় ১৬১ কিলোমিটারের বেশি গতিতে দমকা হাওয়া রেকর্ড করা হয়েছে।

​আশ্রয়কেন্দ্র ও পূর্বপ্রস্তুতি

​ঝড়ের তাণ্ডব শুরুর আগেই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বহু বাসিন্দা জরুরি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছেন। প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার মানুষের বসবাসকারী পর্যটনকেন্দ্র গুয়ামের পাঁচটি স্কুলে বিশেষ আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৭০০ মানুষের সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

​পূর্ববর্তী ঝড়ের ক্ষত ও বর্তমান স্থায়িত্ব

​আবহাওয়াবিদদের মতে, গত এপ্রিল মাসে আঘাত হানা সুপার টাইফুন ‘সিনলাকু’র ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই নতুন করে এই দুর্যোগের মুখোমুখি হলো অঞ্চলটি। পূর্ববর্তী সেই ঝড়ে ১৭ জনের মৃত্যু এবং প্রায় ১৫০ কোটি ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল, যার কারণে বহু মানুষ এখনো বিদ্যুৎহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরের আগে বাতাসের তীব্রতা টাইফুনের মাত্রার নিচে নামার কোনো সম্ভাবনা নেই এবং মধ্যরাতের পর ঝড়টি ক্রান্তীয় ঝড়ে রূপ নিতে পারে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর