ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। গত
রোববার (৫ জুলাই) তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। আজ সোমবার (৬ জুলাই) জনসাধারণের শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তার মরদেহ রাজধানী তেহরানের ফ্রিডম স্কয়ারে নেওয়া হবে বলে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদের ভেতরে লাখো ইরানি সাবেক সর্বোচ্চ নেতা ও তার পরিবারের সদস্যদের কফিন ঘিরে শেষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ সেখানে সমবেত হয়েছেন। প্রায় চার দশক ধরে ইরানকে নেতৃত্ব দেওয়া সর্বোচ্চ নেতার হত্যাকাণ্ডের পর এই আয়োজনের মাধ্যমে ইরান বার্তা দিতে চেয়েছে যে, খামেনি নিহত হলেও তার গড়ে তোলা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো অক্ষত রয়েছে এবং ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া কোনো বাধা ছাড়াই এগিয়ে চলছে। খামেনির মৃত্যুর পর তার উত্তরসূরি হয়েছেন তার ছেলে মোজতবা খামেনি, যিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর এখনো প্রকাশ্যে আসেননি।
আগামী দিনগুলোতেও এ ধরনের জনসমাগম অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। সূচি অনুযায়ী, আগামী ৭ জুলাই খামেনির মরদেহ পবিত্র শহর কোমে, ৮ জুলাই ইরাকের কারবালা ও নজফ শহরে এবং সর্বশেষ ৯ জুলাই ইরানের মাশহাদ শহরে নেওয়া হবে এবং সেখানেই তাকে দাফন করা হবে।
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ১৯৩৯ সালে উত্তর-পূর্ব ইরানের পবিত্র শিয়া শহর মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের প্রাক্কালে তিনি রাজতন্ত্রবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব ছিলেন। ১৯৮১ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ১৯৮৯ সালে সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হন। তার শাসনামলের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ আসে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে, যখন অর্থনৈতিক দুর্দশাকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী বিক্ষোভ শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় তিনি নিহত হন।
এসআর