আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতার ঘোষণা এবং মার্কিন সুদহার নিয়ে অনিশ্চয়তা কিছুটা কমে আসায় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম প্রায় ০.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩১৭ ডলারের বেশি হয়েছে।
এর মাধ্যমে টানা চার কার্যদিবস ধরে ঊর্ধ্বমুখী ধারায় রয়েছে মূল্যবান ধাতুটি।
তবে একই সময়ে আগস্ট সরবরাহের জন্য নির্ধারিত মার্কিন স্বর্ণ ফিউচারের দাম সামান্য কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৩৮ ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করছে।
সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা প্রশমনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি প্রাথমিক চুক্তিতে পৌঁছেছে।
যদিও চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি, তবে উভয় পক্ষই জানিয়েছে স্থায়ী সমাধানের জন্য আরও আলোচনা প্রয়োজন।
বিশ্লেষকদের মতে, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ইতিবাচক বার্তা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন আস্থা তৈরি করেছে। ফলে স্বর্ণের বাজারেও তার প্রভাব পড়েছে।
বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান মেরেক্সের বিশ্লেষক এডওয়ার্ড মেয়ার বলেছেন, ইরান-সম্পর্কিত অগ্রগতির খবরে গত সপ্তাহের শেষ দিক থেকেই স্বর্ণের বাজারে শক্তিশালী গতি দেখা যাচ্ছে, যা স্বল্পমেয়াদে অব্যাহত থাকতে পারে।
এদিকে মার্কিন ডলারের মান সাম্প্রতিক দিনের নিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি থাকায় অন্যান্য দেশের বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বর্ণ কেনা তুলনামূলক সুবিধাজনক হয়ে উঠেছে। এতে বাজারে চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের নজর এখন মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের আসন্ন নীতিনির্ধারণী বৈঠকের দিকে।
নতুন চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ারশের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিতব্য এ বৈঠকে সুদের হার অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে সুদ কমানোর কোনো ইঙ্গিত পাওয়া গেলে স্বর্ণের দামে আরও ঊর্ধ্বগতি দেখা যেতে পারে।
অন্যদিকে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবে জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক তিন দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে সুদের হার বৃদ্ধি করেছে।
বিশ্বের অন্যান্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতো তারাও কঠোর মুদ্রানীতির অবস্থান বজায় রেখেছে।
স্বর্ণ ছাড়াও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। রুপার দাম প্রায় ০.৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৯ ডলারের কিছু বেশি হয়েছে।
একই সময়ে প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও কিছুটা কমেছে।
এসআর