রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের হয়রানি এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে একটি দালালচক্রের বিরুদ্ধে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী পরিচয়ে কয়েকজন হাসপাতালের ভেতরে অবস্থান করে রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা করানোর প্রস্তাব দিচ্ছেন। তারা অল্প সময়ের মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপে পরীক্ষার প্রতিবেদন পাঠানো এবং পরে মূল রিপোর্ট দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছেন।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে একজন প্রতিবেদক রোগী সেজে হাসপাতালে গেলে চিকিৎসক তাকে কয়েকটি পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেন। এ সময় পাশে থাকা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মী নিজেদের মাধ্যমে পরীক্ষা করানোর জন্য চাপ দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে সম্মতি দিলে হাসপাতালের ভেতরেই একজন কর্মী তার রক্তের নমুনা সংগ্রহ করেন।
নমুনা দেওয়ার প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর হোয়াটসঅ্যাপে পরীক্ষার ফল পাঠানো হয় এবং তিন ঘণ্টার মধ্যে মূল প্রতিবেদন দেওয়া হয়। পরে সেই প্রতিবেদন চিকিৎসককে দেখানো হলে তিনি ওষুধ সেবনের পরামর্শ দেন।
সরেজমিনে হাসপাতালের ভেতরে নিউক্লিয়াস ডায়াগনস্টিকসহ বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী পরিচয়ে কয়েকজনকে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। তারা রোগীদের কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার ফল হোয়াটসঅ্যাপে পাঠাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
ফরিদপুর থেকে চিকিৎসা নিতে আসা ৪০ বছর বয়সী আসমা বেগম জানান, আর্থিক সংকটের কারণে কম খরচে চিকিৎসা পাওয়ার আশায় তিনি ঢাকা মেডিকেলে এসেছিলেন। কিন্তু রাতে কয়েকজন তাকে জানান, হাসপাতালের যন্ত্রে পরীক্ষা করালে ভালো ফল পাওয়া যাবে না এবং রিপোর্ট পেতেও দেরি হতে পারে। পরে তাদের কথায় বাইরের পরীক্ষাগারে নমুনা দিতে হয়। তার অভিযোগ, সরকারি ব্যবস্থায় কম খরচে যে পরীক্ষা করানো সম্ভব, সেটির জন্য তাকে কয়েক গুণ বেশি টাকা দিতে হয়েছে।
বরিশাল থেকে আসা ৫৫ বছর বয়সী আলিম উদ্দিনও একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। তার ভাষ্য, রাতে হাসপাতালের লোক পরিচয়ে কয়েকজন এসে চিকিৎসার প্রয়োজনে বাইরের পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেন। বিষয়টি ভালোভাবে না বুঝেই তিনি তাদের কথায় পরীক্ষা করান। পরে বুঝতে পারেন, তিনি প্রতারণার শিকার হয়ে থাকতে পারেন।
রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে কম খরচে চিকিৎসা পাওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে এসেও তাদের বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। হাসপাতালের ভেতরে এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ দাবি করেছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে নিউক্লিয়াস ডায়াগনস্টিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে তাদের প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে রোগীদের বাইরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি তাদের জানা নেই। তবে অভিযোগটি খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম ফরহাদ হোসেন বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হবে। দালালচক্র কিংবা এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এসআর