বাংলাদেশে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ৬৮ দশমিক ৮ শতাংশের লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমেছে।
শনিবার (২৫ অক্টোবর) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হেপাটোলজি বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ডিএমসি লিভার ফেস্ট ২০২৬’ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য তুলে ধরেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।
অনুষ্ঠানে হাসপাতালটির হেপাটোলজি বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. জান্নাতুল হাবিবা নীলা জানান, ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত প্রতি চারজনের মধ্যে একজনের ওজন স্বাভাবিক অথবা স্বাভাবিকের তুলনায় কম। তারপরও তাদের লিভারের ক্ষতি অতিরিক্ত ওজনের ব্যক্তিদের মতো গুরুতর হতে পারে। তাই শুধু ওজন বিবেচনা করে লিভারের সুস্থতা নির্ধারণ করা ঠিক নয়।
চিকিৎসকদের মতে, ডায়াবেটিসের পাশাপাশি ফ্যাটি লিভার থাকলে স্বাস্থ্যের জটিলতা বাড়তে পারে। একইভাবে ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে। এজন্য রক্তে শর্করার মাত্রা ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি লিভারের সুস্থতার দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।
বিশেষজ্ঞরা জানান, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রমের ঘাটতি এবং দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন অনিয়ম ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। অতিরিক্ত ফাস্টফুড ও জাঙ্কফুড খাওয়া, নিয়মিত ব্যায়াম না করা, খেলাধুলার অভাব, রাতে দেরিতে ঘুমানো এবং দীর্ঘ সময় মোবাইল ব্যবহারের মতো অভ্যাসও স্বাস্থ্যঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হেপাটোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সাইফুল ইসলাম জানান, দেশে আনুমানিক চার কোটি মানুষ ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত। এ ছাড়া হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৮৫ লাখ। সব ধরনের লিভার রোগ মিলিয়ে দেশে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় পাঁচ কোটি বলে জানান তিনি।
চিকিৎসকদের ভাষ্য, লিভারের বিভিন্ন রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় উল্লেখযোগ্য উপসর্গ দেখা যায় না। ফলে রোগী সমস্যাটি বুঝতে না পারায় চিকিৎসা নিতে দেরি করতে পারেন। এতে লিভারের ক্ষতি আরও বাড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই সময়মতো রোগ শনাক্ত করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কমাতে সুষম খাবার খাওয়া, নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়া এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ থাকলে সেগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
বিশেষ করে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের লিভারের স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন থাকা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা করানো জরুরি। দেশে লিভার রোগের বিস্তার কমাতে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, উন্নত চিকিৎসাসেবা ও গবেষণার সুযোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
এসআর