দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। চলতি সেপ্টেম্বরের প্রথম ১১ দিনেই এডিস মশাবাহিত এ রোগে ৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে।
একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ৭৯০ জন।
এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৪১। আর এ বছর এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ৪৯ হাজার ২২০ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া দুজনের একজন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার এবং অপরজন চট্টগ্রাম বিভাগের বাসিন্দা।
চলতি বছরে ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে ঢাকা বিভাগে।
ঢাকা বিভাগের দুই সিটি করপোরেশনসহ এ অঞ্চলে ৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরপর খুলনা বিভাগে ২৫, ময়মনসিংহে ১৪, বরিশালে ১২, চট্টগ্রামে ১০, রাজশাহীতে ছয় এবং রংপুর ও সিলেট বিভাগে একজন করে মারা গেছেন।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৭৯০ রোগীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৪৯ জন ঢাকা বিভাগের। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ১৯৬, ময়মনসিংহে ৭৩, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৬২, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৬১, খুলনায় ৬০, রংপুরে ৩৮, রাজশাহীতে ৩৩ এবং বরিশালে ১৮ জন ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ৭৮৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন মোট ৪৫ হাজার ৬৪৫ জন।
ফরিদপুরে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে নতুন করে ৩১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন।
সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ৮৬ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
চলতি বছর ফরিদপুরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে।
ফরিদপুরের সিভিল সার্জন মাহমুদুল হাসান বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য জেলার হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় শয্যা ও ওষুধের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
তবে শুধু চিকিৎসার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এজন্য মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে।
বিশেষ করে কোথাও পানি জমে থাকলে দ্রুত তা অপসারণের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
এসআর