খুলনায় চিকিৎসক ড. ইব্রাহিম খলিল ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সাবেক কর্মকর্তা ড. মোর্তজাকে ঘিরে বিপুল সম্পদ অর্জন, চাকরির বিধিমালা লঙ্ঘন, ক্ষমতার অপব্যবহারসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, খুলনা আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের চিকিৎসক ড. ইব্রাহিম খলিল চাকরির বিধিমালা অনুসরণ না করে বিভিন্নভাবে সম্পদ গড়ে তুলেছেন।
তাঁর নামে ও তাঁর স্ত্রীর নামে খুলনা নগরীর নিরালা এলাকায় ১০ তলা ভবনসহ একাধিক জমি, নগদ অর্থ ও ফিক্সড ডিপোজিট থাকার দাবিও করা হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের অভিযোগ, চাকরিতে যোগদানের পর ড. ইব্রাহিম খলিলের খুলনায় বদলির ক্ষেত্রে তৎকালীন সিভিল সার্জন ড. মোর্তজার প্রভাব ছিল।
পরবর্তীতে আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে দায়িত্ব পালনের সময় তাঁর সম্পদ ও আর্থিক কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে।
অন্যদিকে, ড. মোর্তজার কর্মজীবন নিয়েও বিভিন্ন অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, ১৯৮২ সালে বরিশাল মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করার পর সরকারি বিভিন্ন দায়িত্বে থাকাকালে তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, সরকারি অর্থের অনিয়ম এবং নিয়োগসংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।
ড. মোর্তজার ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও কিছু অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে নির্ভরযোগ্য নথি বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।
একইভাবে তাঁর পারিবারিক সদস্যদের বিষয়ে যেসব গুরুতর দাবি করা হয়েছে, সেগুলোও যাচাই ছাড়া নিশ্চিতভাবে উপস্থাপন করা সমীচীন নয়।
অভিযোগ রয়েছে, ড. মোর্তজার বাবা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ছিলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল।
পরবর্তীতে তিনি নিহত হন বলেও স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে। তবে এ ঘটনার বিস্তারিত তথ্যও স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
ড. মোর্তজার বক্তব্য জানতে তাঁর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে ড. ইব্রাহিম খলিল তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন।
তিনি এসব দাবিকে অসত্য ও ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছেন।
অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং কারও বিরুদ্ধে প্রকৃত অনিয়মের প্রমাণ থাকলে তা নির্ধারণের জন্য নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
তাদের মতে, তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন ও সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
এসআর