[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
৩১ আষাঢ় ১৪৩৩

বিনা প্রেসক্রিপশনে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা জোরদারের ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫ জুলাই ২০২৬ ৮:৩৭ পিএম

সংগৃহীত ছবি

চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার এবং নির্ধারিত কোর্স সম্পূর্ণ না করার প্রবণতা দেশের জন্য বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

তিনি জানান, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) মোকাবিলায় বিনা প্রেসক্রিপশনে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি বন্ধে বিদ্যমান আইন আরও কঠোরভাবে কার্যকর করা হবে এবং এ লক্ষ্যে অভিযান জোরদার করা হচ্ছে।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসন-২ এর সদস্য শিরীন সুলতানার উত্থাপিত জনস্বার্থ-সংশ্লিষ্ট এক নোটিশের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

 

আলোচনায় শিরীন সুলতানা বলেন, অনেক মানুষ চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়ে ফার্মেসির বিক্রয়কর্মীর পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করেন।

পাশাপাশি নির্ধারিত কোর্স শেষ না করায় জীবাণু সম্পূর্ণ নির্মূল হয় না, ফলে অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা কমে যায় এবং সাধারণ সংক্রমণও জটিল আকার ধারণ করতে পারে। তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে এ বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ জানতে চান।

 

জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার ও নকল ওষুধ নিয়ন্ত্রণে দেশে প্রয়োজনীয় আইন রয়েছে এবং নিয়মিতভাবে তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর কয়েকটি আয়ুর্বেদিক ও ইউনানি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে নকল ওষুধ উৎপাদনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি জরিমানাও করা হয়েছে।

 

তিনি আরও জানান, নকল ওষুধ প্রতিরোধে উপজেলা ও শহর পর্যায়ে ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট নিয়মিত ওষুধের দোকান পরিদর্শন করছে। অপরাধ প্রমাণিত হলে গ্রেপ্তার, জরিমানা এবং প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধানও রয়েছে।

 

মন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকের বৈধ প্রেসক্রিপশন ছাড়া কোনো ফার্মেসি বা ডিসপেনসারিতে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি করা আইনত নিষিদ্ধ। এ বিষয়ে চলমান তদারকি ও মোবাইল কোর্ট কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

 

তিনি বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকার নকল ওষুধ উৎপাদন, অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার এবং বিনা প্রেসক্রিপশনে ওষুধ বিক্রি বন্ধে ভবিষ্যতেও আরও কঠোর নজরদারি ও আইন প্রয়োগ অব্যাহত রাখবে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর