[email protected] সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
১২ শ্রাবণ ১৪৩৩

হাসপাতালের নয়, প্যাথলজির লাইসেন্স বাতিল: শিশির মনির

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২ জুন ২০২৬ ৮:৪৯ এএম

সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল নিয়ে এক জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

 হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিলের ঘোষণা দিলেও, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আইনজীবী দাবি করেছেন যে মূল হাসপাতালের নয়, বরং প্যাথলজি সেন্টারের লাইসেন্স ভুলবশত বা ইচ্ছাকৃতভাবে বাতিল করা হয়েছে। অন্যদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে।

​হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আইনি দাবি

​আদ্-দ্বীন হাসপাতালের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির একটি ফেসবুক পোস্টে লাইসেন্স বাতিলের আদেশের কপি সংযুক্ত করে আইনি ও প্রযুক্তিগত কিছু অসঙ্গতি তুলে ধরেন:

​ভিন্ন লাইসেন্স নম্বর: গত ৪ জুন দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২ অনুযায়ী হাসপাতালটিকে যে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছিল, তাতে লাইসেন্স নম্বর উল্লেখ ছিল HSM 4310059।

​প্যাথলজির লাইসেন্স: আইনজীবীর দাবি অনুযায়ী, সরকার হাসপাতালটি পরিচালনার জন্য দুটি ভিন্ন লাইসেন্স দিয়েছে। শোকজ নোটিশে উল্লেখিত নম্বরটি হাসপাতালের নয়, বরং তাদের প্যাথলজি সেন্টারের। অপরদিকে মূল হাসপাতালের লাইসেন্স নম্বর হলো HSM 4310058।

​কর্তৃপক্ষের অবহেলা: হাসপাতাল ও প্যাথলজির আলাদা লাইসেন্স কপি প্রকাশ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন—কর্তৃপক্ষ আসলে কোন লাইসেন্সটি বাতিল করল? এটি তাদের দাপ্তরিক অবহেলা নাকি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, তা নিয়ে তিনি জনমনে প্রশ্ন ছেড়ে দেন।

​স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনড় অবস্থান

​হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এই দাবিকে পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর:

​আদেশে স্পষ্টতা: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান জানান, আদেশে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের কথা বলা হয়েছে। টেকনিক্যাল অজুহাত দেখিয়ে কোনো লাভ হবে না। প্রয়োজনে তারা বিষয়টি সরজমিনে পরিদর্শন করবেন এবং আদেশে কোনো সংশোধনের দরকার হলে তা পরে করা হবে।

​লাইসেন্সবিহীন চিকিৎসা নয়: এর আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানান, হাসপাতালটির দেওয়া শোকজের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় অর্ডিন্যান্সের ১১(২)(খ) ধারা অনুযায়ী এটি বাতিল করা হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালটি সম্পূর্ণ অবৈধ বা লাইসেন্সবিহীন এবং এখানে রোগীদের চিকিৎসা নেওয়া উচিত নয়।

​লাইসেন্স বাতিলের পটভূমি ও পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ

​৬ নবজাতকের মৃত্যু: গত ২৭ মে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্টে হাসপাতালের অক্সিজেন স্বল্পতা এবং কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলাকে এই মৃত্যুর জন্য দায়ী করা হয়।

​শোকজের অসন্তোষজনক জবাব: এই ঘটনার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হাসপাতালটিকে ৭২ ঘণ্টার সময় দিয়ে শোকজ নোটিশ পাঠায়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত ৪৮ ঘণ্টা সময় চেয়ে গত ৯ জুন যে লিখিত জবাব দেয়, তা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি। ফলে লাইসেন্স বাতিলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

​আপিলের সুযোগ: সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশের ১২ ধারা অনুযায়ী, এই লাইসেন্স বাতিলের আদেশের বিরুদ্ধে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আপিল করার আইনি সুযোগ রয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।

এসআর

সম্পর্কিত খবর