[email protected] শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
১৬ কার্তিক ১৪৩৩

সাই পল্লবীর ত্বকে রোজেশিয়ার সমস্যা, কী এই রোগের লক্ষণ ও করণীয়?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ৮:১২ পিএম

সংগৃহীত ছবি

‘রামায়ণ’ সিনেমা নিয়ে আলোচনার মধ্যেই নতুন করে খবরের শিরোনামে এসেছেন দক্ষিণ ভারতীয় অভিনেত্রী সাই পল্লবী।

সম্প্রতি তার পুরোনো একটি সাক্ষাৎকার ঘিরে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। সেখানে নিজের মুখের ব্রণ ও লালচে দাগ নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছিলেন এই অভিনেত্রী।

 

স্বাভাবিক সৌন্দর্য ও আত্মবিশ্বাসের জন্য পরিচিত সাই পল্লবী জানিয়েছিলেন, মুখে ব্রণ থাকা সত্ত্বেও দর্শকদের ভালোবাসা তাকে নিজের চেহারা নিয়ে ইতিবাচক থাকতে সাহায্য করেছে। তার এই অভিজ্ঞতার সূত্র ধরে রোজেশিয়া নামের একটি ত্বকের সমস্যা নিয়েও আলোচনা সামনে এসেছে।

 

রোজেশিয়া কী এবং কীভাবে বোঝা যায়?

রোজেশিয়া মুখের ত্বকের দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহজনিত একটি সমস্যা। সাধারণত গাল, নাক, কপাল ও থুতনিতে এর প্রভাব দেখা যায়। এ রোগে মুখের ত্বক দীর্ঘক্ষণ লালচে থাকতে পারে। পাশাপাশি মুখে গরম অনুভূতি, ত্বকের নিচে সূক্ষ্ম রক্তনালি দৃশ্যমান হওয়া এবং ব্রণের মতো ছোট ছোট দানা দেখা দিতে পারে।

 

কিছু ক্ষেত্রে ত্বকে জ্বালাপোড়া, খোঁচা লাগার অনুভূতি ও অতিরিক্ত সংবেদনশীলতাও তৈরি হয়। মুখ বারবার লাল হয়ে যাওয়া কিংবা দীর্ঘসময় লালচে ভাব বজায় থাকলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। তবে চিকিৎসকের পরীক্ষা ছাড়া নিশ্চিতভাবে রোজেশিয়া বলা যায় না।

 

সাধারণ ব্রণ ও রোজেশিয়ার পার্থক্য

দেখতে কাছাকাছি মনে হলেও ব্রণ ও রোজেশিয়া এক ধরনের সমস্যা নয়। সাধারণত ত্বকের রোমকূপ বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং অতিরিক্ত তেল উৎপাদনের কারণে ব্রণ তৈরি হয়। এতে ব্ল্যাকহেডস, হোয়াইটহেডস ও বিভিন্ন ধরনের ফুসকুড়ি দেখা যায়।

 

অন্যদিকে, রোজেশিয়ার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো মুখের লালচে ভাব, বারবার ত্বক লাল হয়ে যাওয়া এবং প্রদাহযুক্ত ছোট দানা। এ সমস্যায় সাধারণত ব্ল্যাকহেডস বা হোয়াইটহেডস দেখা যায় না।

 

দুটি সমস্যার চিকিৎসাপদ্ধতিও আলাদা। তাই ব্রণের জন্য ব্যবহৃত কিছু প্রসাধনী বা ওষুধ রোজেশিয়ার ক্ষেত্রে ত্বকের জ্বালাপোড়া বাড়িয়ে দিতে পারে। দীর্ঘদিন এমন সমস্যা থাকলে ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

 

কোন কারণে বাড়তে পারে রোজেশিয়া?

রোজেশিয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি। তবে কিছু পরিবেশগত ও জীবনযাপনসংক্রান্ত বিষয় এর উপসর্গ বাড়িয়ে দিতে পারে। যেমন—

 

  • অতিরিক্ত রোদে অবস্থান করা।
  • বেশি গরম পরিবেশে থাকা।
  • মানসিক চাপ ও উদ্বেগ।
  • ঝাল ও মসলাযুক্ত খাবার।
  • অতিরিক্ত গরম পানিতে গোসল করা।
  •  

সবার ক্ষেত্রে একই কারণে উপসর্গ বাড়ে না। তাই কোন পরিস্থিতিতে ত্বকের সমস্যা বেশি হচ্ছে, তা পর্যবেক্ষণ করা উপকারী। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো খাবার অকারণে বাদ দেওয়া উচিত নয়।

 

চিকিৎসা ও ত্বকের যত্ন

রোজেশিয়া সম্পূর্ণ নির্মূল করার নির্দিষ্ট চিকিৎসা না থাকলেও যথাযথ ব্যবস্থাপনায় এর লক্ষণ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। রোগের ধরন ও তীব্রতা অনুযায়ী চিকিৎসক ত্বকে ব্যবহারের ওষুধ, মুখে খাওয়ার ওষুধ কিংবা প্রয়োজন অনুযায়ী লেজার থেরাপির পরামর্শ দিতে পারেন।

 

ত্বকের যত্নে কয়েকটি বিষয় মেনে চলা প্রয়োজন—

  • ত্বকের উপযোগী মৃদু ক্লিনজার ব্যবহার করা।
  • সুগন্ধিমুক্ত ময়েশ্চারাইজার বেছে নেওয়া।
  • নিয়মিত উপযুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করা।
  • স্ক্রাব ও কড়া রাসায়নিকযুক্ত প্রসাধনী এড়িয়ে চলা।
  • চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ ব্যবহার না করা।
  •  

চোখেও দেখা দিতে পারে সমস্যা

রোজেশিয়া শুধু মুখের ত্বকেই সীমাবদ্ধ থাকে না। কিছু ক্ষেত্রে চোখেও এর প্রভাব পড়তে পারে। চোখ শুষ্ক হওয়া, জ্বালাপোড়া, অতিরিক্ত পানি পড়া, চোখে কিছু আটকে থাকার অনুভূতি এবং চোখের পাতায় লালচে ভাব দেখা দিতে পারে।

 

চোখে ব্যথা, আলো সহ্য করতে অসুবিধা কিংবা দৃষ্টিশক্তিতে পরিবর্তন দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

সাই পল্লবীর অভিজ্ঞতা আবারও মনে করিয়ে দেয়, ত্বকের সমস্যা কারও সৌন্দর্য কিংবা ব্যক্তিত্ব নির্ধারণ করে না। ত্বকের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য মেনে নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ। লক্ষ্য হওয়া উচিত নিখুঁত ত্বক নয়, বরং সুস্থ ত্বক ও আত্মবিশ্বাস বজায় রাখা।

এসআর

সম্পর্কিত খবর