র্যাগিং, শিক্ষার্থীকে মারধর, হয়রানি এবং মাদকসংশ্লিষ্ট ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) ৩০ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন।
গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বোর্ডের ২৮তম সভায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরদিন বুধবার (২৮ অক্টোবর) ছাত্রবিষয়ক পরিচালক ও বোর্ডের সদস্যসচিব অধ্যাপক ড. মো. সালাউদ্দীন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে শাস্তির বিষয়টি প্রকাশ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত বছরের ২৯ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়া এলাকায় ছয় শিক্ষার্থীকে হয়রানির ঘটনায় ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি (ফউটে) ডিসিপ্লিনের মো. ফারদিন আহমেদ দিপন এবং ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ ডিসিপ্লিনের শেখ আমির মাহদ্বীন ও শেখ মুরসালিন রহমানকে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
এ বছরের ৬ মে ফউটে ডিসিপ্লিনের ২৬ ব্যাচের ১২ শিক্ষার্থী একই ডিসিপ্লিনের ২৫ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে র্যাগিংয়ের অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় প্রণয় কুমার ঘোষকে দুই টার্মের জন্য বহিষ্কার এবং ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মো. জুবায়ের হোসেনকে এক টার্ম বহিষ্কারের পাশাপাশি ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
একই ঘটনায় অসিম দাস, তৌফিক মাহিনুল আহছান ও আব্দুল্লাহ আল সিফাতকে ১৫ হাজার টাকা করে এবং স্বপন কুমার দাশ, দেবাশীষ মন্ডল ও সজল পালকে ৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, গত ১২ মে আইন ডিসিপ্লিনের ২৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. আমানউল্লাহ আমানকে ফউটে ডিসিপ্লিনের একদল শিক্ষার্থীর মারধরের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় বিশ্বজিৎ চক্রবর্তীকে দুই টার্মের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া সুদীপ কুমার নন্দী, মাহমুদুর রহমান, হেমেন্দ্র মৃধা, আসিফ আদনান, আজিজিল ইসলাম কাফফি, শেখ তাজবীদ ইসলাম, রাকিব হোসেন ও প্রণয় কুমার ঘোষকে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
এ ছাড়া গত ১৪ আগস্ট রাত ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত হল রোডসংলগ্ন নয়ন সড়কের একটি বাসায় ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ ডিসিপ্লিনের ২৫ ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ২৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের জোর করে উপস্থিত হতে বাধ্য করার অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনায় মুশফিকুল হক মাহিদকে দুই টার্ম বহিষ্কারের পাশাপাশি ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মো. মারুফ সরোয়ারকে এক টার্ম বহিষ্কার ও ১৫ হাজার টাকা এবং মো. মিশন রহমান ও মো. খায়রুল ইসলামকে এক টার্ম বহিষ্কারের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া সাইদিস সালেহীন স্বপ্নীল, ঋত্বিক কর্মকার, সৌরভ চন্দ্র বর্মন ও রাগিব শাহরিয়ারকে ২৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মাদকসংশ্লিষ্ট ঘটনায়ও তিন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন। গত ৩০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে সহকারী ছাত্রবিষয়ক পরিচালকদের নিয়মিত টহলের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন ৪ নম্বর একাডেমিক ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে গাঁজাসহ গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা (এমসিজে) ডিসিপ্লিনের তিন শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়।
এ ঘটনায় এস এম তৌফিক আলমকে দুই টার্ম বহিষ্কার এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মুশফিক উল ইসলামকে এক টার্ম বহিষ্কারের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা এবং কাজী রিয়াজুস ছলেহীনকে এক টার্ম বহিষ্কারের পাশাপাশি ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
এফ/ডি