[email protected] বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
১৩ কার্তিক ১৪৩৩

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ, কুবি শিক্ষার্থীর স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি

কুবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ৭:৪৯ পিএম

সংগৃহীত ছবি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় আচার ও বিশ্বাস নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর স্থায়ী বহিষ্কার ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

এ দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা।

 

অভিযুক্ত শিক্ষার্থী মোতাসিম বিল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মঞ্জুর হোসেনের কাছে স্মারকলিপিটি জমা দেন শিক্ষার্থীরা।

 

ফেসবুক পোস্ট ঘিরে বিতর্ক

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, গত ২২ অক্টোবর মোতাসিম বিল্লাহ নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রতিমা বিসর্জন ও ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে একটি পোস্ট দেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পোস্টটির বক্তব্য সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে এবং ক্যাম্পাসের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

 

অভিযোগ অনুযায়ী, ওই পোস্টে প্রতিমা তৈরি, পূজা-অর্চনা এবং বিসর্জনের বিষয় তুলে ধরে প্রতিমার সৃষ্টিকর্তা হওয়ার ধারণা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। একই পোস্টে নিজের ধর্মীয় বিশ্বাসের ব্যাখ্যাও দেন অভিযুক্ত শিক্ষার্থী।

 

পোস্টটি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হলে মোতাসিম সেটি সরিয়ে নেন। পরে ক্ষমা চেয়ে আরেকটি পোস্ট দেন বলে জানা গেছে।

 

ক্ষমা চাওয়ার পোস্টে তিনি অমুসলিম নাগরিকদের প্রতি সম্মান জানানোর কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তাঁর বক্তব্য কাউকে অসম্মান করার উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন। নিজের ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে কিছু প্রশ্ন তুলে ধরেছিলেন বলেও পোস্টে ব্যাখ্যা দেন তিনি।

 

স্থায়ী বহিষ্কার ও তদন্তের দাবি

স্মারকলিপিতে গত বছরের ৫ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ধর্ম অবমাননার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে সরাসরি বহিষ্কারের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ছিল।

 

সেই সিদ্ধান্তের আলোকে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ক্যাম্পাসে সব শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

 

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সজিব বিশ্বাস বলেন, বিজয়া দশমীকে কেন্দ্র করে তাঁদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও আচার-অনুষ্ঠান নিয়ে কটাক্ষমূলক বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাচ্ছেন তাঁরা। তাঁর দাবি, গত বছর একই ধরনের ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছিল।

 

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় প্রক্টর বরাবর লিখিত আবেদন দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশ প্রশাসনের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে এমন ঘটনা প্রতিরোধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপও প্রত্যাশা করেন তিনি।

 

নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান শিক্ষার্থীর

বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী অন্তু দাস বলেন, বাংলাদেশ সব ধর্মের মানুষের দেশ। কোনো ধর্মের প্রতি বিদ্বেষমূলক বা অবমাননাকর মন্তব্য করা উচিত নয়। তাঁর মতে, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর পোস্টের বক্তব্য ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্প্রীতির পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করেছে।

 

তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

 

নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করলেন অভিযুক্ত

অভিযোগের বিষয়ে মোতাসিম বিল্লাহ বলেন, তিনি সরল মনে ফেসবুকে পোস্টটি দিয়েছিলেন। পরে অমুসলিম ভাই-বোনেরা কষ্ট পেয়েছেন বুঝতে পেরে পোস্টটি মুছে ফেলেন এবং ক্ষমা চেয়ে দুটি পোস্ট দেন।

 

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি অনুতপ্ত। ক্ষমা চাওয়ার পরও তাঁর বিরুদ্ধে স্মারকলিপি দেওয়ার ঘটনায় তিনি কষ্ট পেয়েছেন।

 

প্রশাসনের বক্তব্য

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মঞ্জুর হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে স্মারকলিপি গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর ফেসবুক পোস্টটি মুছে ফেলার বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রক্টরের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।

 

ঘটনাটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা।

এসআর

সম্পর্কিত খবর