[email protected] বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
৫ কার্তিক ১৪৩৩

ইবিকে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা আইসিটি পরিচালকের

ইবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২০ অক্টোবর ২০২৬ ৯:৩০ পিএম

সংগৃহীত ছবি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে (ইবি) প্রযুক্তিনির্ভর, আধুনিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলাম।

এ জন্য শিক্ষা, পরীক্ষা, প্রশাসন ও আর্থিক ব্যবস্থাপনাসহ ১২টি গুরুত্বপূর্ণ খাতে ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।

 

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক পোস্টে নিজের পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ কর্মপদ্ধতি তুলে ধরেন অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলাম। একই সঙ্গে বিদ্যমান প্রযুক্তিগত সেবার সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন এবং পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নযোগ্য পরিকল্পনা তৈরির কথা জানান তিনি।

 

নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর শুভেচ্ছা জানানো সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এসব শুভেচ্ছার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রত্যাশাও যুক্ত রয়েছে। শিক্ষার্থীদের সেবা গ্রহণ সহজ করা, প্রশাসনিক কাজে জটিলতা কমানো এবং প্রযুক্তিনির্ভর ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠা সেই প্রত্যাশার অন্যতম অংশ।

 

ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয় গঠনে ১২টি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র চিহ্নিত করেছেন আইসিটি সেলের পরিচালক। এর মধ্যে রয়েছে সমন্বিত ইউনিভার্সিটি ইআরপি (এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স প্ল্যানিং) ব্যবস্থা চালু, শিক্ষার্থীদের তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা, পরীক্ষা ও ফলাফল প্রকাশের প্রক্রিয়া আধুনিক করা এবং শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যক্তিগত তথ্য ও বেতন ব্যবস্থাপনাকে প্রযুক্তিনির্ভর করা।

 

এ ছাড়া অনলাইনে ফি পরিশোধ ও আর্থিক লেনদেন সহজ করা, ক্যাম্পাসে নিরবচ্ছিন্ন ও নিরাপদ ইন্টারনেট নিশ্চিত করা, আধুনিক ডেটা সেন্টার ও ক্লাউড সেবা চালু এবং সাইবার নিরাপত্তা শক্তিশালী করার পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ও ডিজিটাল যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, কাগজের ব্যবহার কমিয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা, অনলাইন শিক্ষা ও গবেষণায় প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং আইটি হেল্পডেস্ক ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলাম জানান, এসব সেবার কয়েকটি বর্তমানে সীমিত পরিসরে চালু থাকলেও পূর্ণাঙ্গ ও সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আরও উন্নতির সুযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সেবাগুলোকে কার্যকরভাবে একীভূত করা এবং বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের প্রত্যাশা পূরণ করাকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন।

 

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি মাস্টারপ্ল্যান তৈরির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি। তাঁর মতে, স্বল্পমেয়াদে চালু থাকা সেবার মান বাড়ানো, জরুরি প্রযুক্তিগত সমস্যার সমাধান এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন ভোগান্তি কমানোর দিকে নজর দিতে হবে। অন্যদিকে, দীর্ঘমেয়াদে সমন্বিত ইআরপি ব্যবস্থা, উন্নত নেটওয়ার্ক অবকাঠামো, তথ্যের নিরাপদ ব্যবস্থাপনা এবং পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ প্রয়োজন।

 

তিনি মনে করেন, কেবল আইসিটি সেলের পক্ষে এ ধরনের রূপান্তর সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতা, পর্যাপ্ত অর্থায়ন, দক্ষ জনবল, পরিকল্পিত অবকাঠামো এবং বিভিন্ন দপ্তরের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। প্রশাসনিক দায়িত্ব ও কর্তৃত্ব নির্ধারিত হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি ও অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো অনুসারে। আইসিটি সেল সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও প্রয়োজনীয় ডিজিটাল অবকাঠামো তৈরিতে কাজ করবে।

 

তাৎক্ষণিক পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি না দিয়ে বাস্তবসম্মত ও ধারাবাহিক উদ্যোগের মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন নবনিযুক্ত পরিচালক। তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনে আন্তরিকতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। কোন ক্ষেত্রে কী সমস্যা রয়েছে, কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব এবং তা বাস্তবায়নে কতটুকু সময় ও সম্পদ প্রয়োজন—এসব বিষয় বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

 

এদিকে, শিক্ষার্থীদের আইসিটি-সংক্রান্ত সমস্যার কথা জানানো এবং উন্নয়নের জন্য পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা ও মতামত ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার অগ্রাধিকার নির্ধারণে সহায়ক হবে বলে মনে করেন অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলাম। তাঁর আশা, সম্মিলিত উদ্যোগ, কার্যকর পরিকল্পনা ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে আধুনিক, সেবাবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়া সম্ভব হবে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর