[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

পদত্যাগের খবর ভিত্তিহীন, সুস্থ হয়ে চুয়েটে ফিরতে চান উপাচার্য

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ৪:৩৩ পিএম

সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম জানিয়েছেন, তাঁর পদত্যাগ এবং ভবিষ্যতে ক্যাম্পাসে না ফেরার বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর সঠিক নয়।

সুস্থ হয়ে আবারও বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তিনি।

 

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি এসব কথা বলেন। উপাচার্যের ভাষ্য, তাঁকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত বা ভবিষ্যতে ক্যাম্পাসে না ফেরার বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে দেখা যায়নি। অসুস্থতার কারণে তাঁকে ক্যাম্পাস ছাড়তে হয়েছিল। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে দায়িত্বে ফিরবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

 

এদিকে উপাচার্যকে ঘিরে সৃষ্ট ঘটনার পর চুয়েট ক্যাম্পাসে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে। বুধবারও ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে পূর্ণাঙ্গ শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে, আগের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ধর্মঘটও চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অচলাবস্থা ২৩ দিনে গড়িয়েছে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

 

গত সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে প্রশাসনিক ভবন-২-এর তালা ভেঙে উপাচার্যের কার্যালয়ে প্রবেশ করেন অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাও ছিলেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তাঁকে ক্যাম্পাস ছাড়ার জন্য সময়সীমা বেঁধে দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি চলে না যাওয়ায় উপাচার্যসহ ১২ জন ভবনটিতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।

 

প্রায় ৩০ ঘণ্টা বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় থাকার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সহায়তায় অবরুদ্ধ ব্যক্তিরা মুক্ত হন। পরে অসুস্থ উপাচার্যকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাঁকে ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

 

শিক্ষার্থীদের দাবি, উপাচার্যকে মুক্তি দেওয়ার শর্ত ছিল তিনি আর ক্যাম্পাসে প্রবেশ করবেন না। তবে এমন কোনো শর্তে মুক্ত হওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম।

 

চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী গোলাম মোর্শেদ রাতুল বলেন, উপাচার্য আর ক্যাম্পাসে প্রবেশ করবেন না—এমন শর্তের কথা তাঁরা জানিয়েছিলেন। তিনি পুনরায় ক্যাম্পাসে আসার কথা বললে শিক্ষার্থীরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন বলেও জানান ওই শিক্ষার্থী।

এসআর

সম্পর্কিত খবর