[email protected] মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

কুবিতে চিঠি উৎসব, হাতে লেখা বার্তায় ফিরল পুরোনো দিনের আবেগ

কুবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১১ অক্টোবর ২০২৬ ৭:১৮ পিএম

সংগৃহীত ছবি

ডিজিটাল যোগাযোগের দ্রুতগতির সময়ে হাতে লেখা চিঠির আবেদন ও ঐতিহ্যকে তরুণ প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) আয়োজন করা হয়েছে ‘চিঠি উৎসব’।

বিশ্ব ডাক দিবস উপলক্ষে কুমিল্লা ডাক বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে চিঠি লেখা, ডাকটিকিট প্রদর্শনীসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেন শিক্ষার্থীরা।


রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাডমিন্টন কোর্টে উৎসবের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন। অনুষ্ঠানে কুমিল্লা ডাক বিভাগের ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং ডাক বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।


উৎসবে অংশগ্রহণকারীরা স্বজন ও প্রিয়জনের উদ্দেশে নিজেদের অনুভূতি চিঠিতে প্রকাশ করেন। ১২ থেকে ২২ টাকা খরচে বিশেষ ডাকসেবার মাধ্যমে চিঠি পাঠানোর সুযোগ পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ দেখা যায়। অনেকের কাছে এই আয়োজন ছিল দীর্ঘদিনের বিরতিতে কলম হাতে মনের কথা লেখার ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা।


বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাতেমা যুথি বলেন, চিঠির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা আবেগ অন্য রকম। প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা বাড়ায় হাতে লিখে চিঠি পাঠানোর অভ্যাস অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। উৎসবে এসে আবার চিঠি লেখার সুযোগ পেয়ে তাঁর ভালো লাগার পাশাপাশি মিশ্র অনুভূতি হয়েছে।


কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী সুমাইয়া ইসলাম প্রয়াত দাদাকে উদ্দেশ করে প্রথমবারের মতো চিঠি লেখেন। তিনি জানান, দাদাকে নিয়ে মনের অনেক কথা কাগজে লিখেছেন। যদিও সেই চিঠি তাঁর দাদার কাছে পৌঁছানোর সুযোগ নেই, তবু লেখার মধ্য দিয়ে অনুভূতিগুলো প্রকাশ করতে পেরেছেন।


উৎসবে অংশ নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘ ২৩ বছরের দাম্পত্য জীবনে স্ত্রীকে যেসব কথা সরাসরি বলা হয়ে ওঠেনি, সেগুলোই চিঠির মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। তাঁর কাছে এটি ছিল নিজের অনুভূতি প্রকাশের এক বিশেষ উপলক্ষ।


ডাকটিকিট ও ডাকসেবার প্রদর্শনী
চিঠি লেখার পাশাপাশি উৎসবে আয়োজন করা হয় ডাকটিকিট ও ডাক বিভাগের বিভিন্ন সামগ্রীর প্রদর্শনী। এতে ১, ২, ৩, ৪, ৫, ১০ ও ২০ টাকা মূল্যমানের ঐতিহ্যবাহী ও স্মারক ডাকটিকিট প্রদর্শিত হয়। ডাকটিকিটের ইতিহাস ও সংগ্রহের প্রতি তরুণদের আগ্রহ বাড়াতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।


উৎসবের বিভিন্ন স্টলে ডায়েরি, ক্যালেন্ডার এবং বিভিন্ন আকারের লেটার বক্সও বিক্রি করা হয়। পোস্টার ও ব্যানারের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ ডাক, রেজিস্ট্রি চিঠি, স্পিড পোস্ট, পার্সেল ও আন্তর্জাতিক ডাকসেবার পাশাপাশি সঞ্চয় হিসাব, সঞ্চয়পত্র এবং ‘নগদ’ সেবা সম্পর্কে তথ্য তুলে ধরা হয়।


বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাফিসা হাসানাত নোহা জানান, উৎসবের স্টল থেকে নব্বইয়ের দশকের বিভিন্ন খাম ও ডাকটিকিট সংগ্রহ করেছেন। পুরোনো দিনের এসব সামগ্রী তাঁর কাছে আনন্দের বিষয় হয়ে উঠেছে।


আধুনিক যুগেও ডাকসেবার গুরুত্ব রয়েছে
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন বলেন, ডিজিটাল যোগাযোগের প্রসার ঘটলেও ডাক বিভাগের প্রয়োজনীয়তা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন সেবা চালু ও উন্নত করেছে। তবে পর্যাপ্ত প্রচারের অভাবে এসব সেবা সম্পর্কে অনেক মানুষ অবগত নন। তাই আধুনিক ডাকসেবার সুবিধাগুলো সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে প্রচারণা বাড়ানো প্রয়োজন।


ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, তরুণদের মধ্যে চিঠি লেখার অভ্যাস ফিরিয়ে আনা এবং ডাক বিভাগের সেবার সঙ্গে তাদের পরিচিত করাই উৎসবের প্রধান উদ্দেশ্য। পাশাপাশি স্পিড পোস্ট ও পার্সেলসহ আধুনিক সেবাগুলো সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের ধারণা দেওয়ার লক্ষ্যেও এ আয়োজন করা হয়েছে। তিনি শিক্ষার্থীদের ডাক বিভাগের বিভিন্ন সেবা ব্যবহারের আহ্বান জানান।


‘সমন্বিত ডাক নেটওয়ার্ক, সীমাহীন সম্ভাবনা’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এ উৎসবে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং ডাক বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।

এসআর

সম্পর্কিত খবর