[email protected] সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুমোদনহীন দুই দোকান, এস্টেট শাখার লিখিত অভিযোগ

ববি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১০ অক্টোবর ২০২৬ ৯:১১ পিএম

সংগৃহীত ছবি

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) ক্যাম্পাসের ভেতরে যথাযথ অনুমোদন ছাড়াই দুটি দোকান নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।

এর মধ্যে একটি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান নির্মাণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে এস্টেট শাখা। তবে দোকান স্থাপনের অনুমোদন দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপাচার্য।

 

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ক্যাম্পাসের ‘হতাশা চত্বর’ সংলগ্ন তাপসী রাবেয়া বসরী হলের প্রবেশপথের পাশে বাঁশ দিয়ে একটি বড় দোকান তৈরি করা হয়েছে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির সামনেও আরেকটি দোকান নির্মাণের খবর পাওয়া গেছে।

 

অভিযোগ রয়েছে, দোকান নির্মাণের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কিংবা এস্টেট শাখার লিখিত অনুমতি নেওয়া হয়নি। ক্যাম্পাসে আবাসিক হলকেন্দ্রিক নির্দিষ্ট স্থান ছাড়া অন্য এলাকায় বাণিজ্যিক দোকান স্থাপনের নিয়ম নেই বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এ ছাড়া প্রক্টর কার্যালয়ের এ ধরনের স্থাপনা অনুমোদনের এখতিয়ার নেই বলে দাবি করা হয়েছে।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ছাত্রদল নেতা মিজানুর রহমান দোকানটি নির্মাণ করেছেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তাঁর অভিযোগ, প্রশাসনের অনুমতি না থাকলেও উপাচার্যের নাম ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হয়েছে।

 

অভিযোগের বিষয়ে ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান বলেন, দোকানটি তিনি নির্মাণ করুন বা অন্য কেউ করুক, প্রক্টরের অনুমতি নিয়েই করা হয়েছে।

 

এদিকে হলের প্রবেশপথে দোকান নির্মাণের ঘটনায় ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে হল প্রশাসন। তাপসী রাবেয়া বসরী হলের সেকশন অফিসার সিনথিয়া শারমিন বিষয়টি এস্টেট শাখাকে অবহিত করেন।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট শাখার সহকারী রেজিস্ট্রার মো. সাইদুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে তাঁরা ক্যাম্পাস পরিদর্শন করে দুটি দোকান দেখতে পান। এস্টেট শাখা থেকে কোনো দোকান নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয়নি। হলের প্রধান সড়কে দোকান স্থাপনের কারণে ছাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রেজিস্ট্রারের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসনকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে।

 

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মেহেদী হাসান সোহাগ ছাত্রদল নেতার দোকান নির্মাণের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি, দোকানটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নির্মাণ করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে এস্টেট শাখা অবগত। তবে এস্টেট শাখা অনুমতির বিষয়টি অস্বীকার করেছে জানানো হলে তিনি রেজিস্ট্রার শাখার সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশীদ বলেন, এ বিষয়ে তিনি কোনো অনুমতি দেননি এবং দোকান নির্মাণের বিষয়টি সম্পর্কেও অবগত ছিলেন না। তাঁর নাম ব্যবহার করে কেউ এমন কাজ করলে তা গ্রহণযোগ্য নয়। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করতে হলে অবশ্যই নির্ধারিত নিয়ম ও বিধি অনুসরণ করতে হবে বলে জানান তিনি।

এসআর

সম্পর্কিত খবর