[email protected] মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
২০ আশ্বিন ১৪৩৩

বিশ্ব শিক্ষক দিবস আজ

যারা গড়েন ভবিষ্যৎ, তাদের ভবিষ্যৎ কতটা নিরাপদ?

সাইদুর রহমান

প্রকাশিত: ৫ অক্টোবর ২০২৬ ১১:৫০ এএম

সংগৃহীত ছবি

একজন শিক্ষকের কাজ কেবল শ্রেণিকক্ষে পাঠদানেই সীমাবদ্ধ নয়।

শিক্ষার্থীর জ্ঞান, মনন, মূল্যবোধ, সৃজনশীলতা ও দায়িত্ববোধ তৈরির মধ্য দিয়ে একটি প্রজন্মকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করেন শিক্ষক। একটি দক্ষ, মানবিক ও সৃজনশীল সমাজ গঠনে তাই শিক্ষকের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

কিন্তু যে মানুষগুলো ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তৈরির দায়িত্ব পালন করেন, তাদের নিজেদের পেশাগত নিরাপত্তা, বেতন-ভাতা, কর্মপরিবেশ, প্রশিক্ষণ ও সামাজিক মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন বহুদিনের।

দায়িত্ব ও প্রত্যাশা বাড়লেও সেই তুলনায় শিক্ষকরা কতটা সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন, বিশ্ব শিক্ষক দিবসে সামনে আসে সেই প্রশ্নও।

প্রতি বছর ৫ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে পালিত হয় বিশ্ব শিক্ষক দিবস। শিক্ষকদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাদের অধিকার, মর্যাদা ও পেশাগত নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরাই দিবসটির অন্যতম লক্ষ্য। এ বছরও শিক্ষকতা পেশার বর্তমান অবস্থা, বেতন কাঠামো, পেশাগত অগ্রগতি ও শিক্ষক সংকট নিয়ে নতুন করে আলোচনা হচ্ছে।

নতুন বেতন কাঠামো, পুরোনো বাস্তবতার চাপ

বাংলাদেশে সরকারি, বেসরকারি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন-ভাতা এবং সুযোগ-সুবিধার মধ্যে এখনও পার্থক্য রয়েছে। নতুন জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ অনুযায়ী ১৩তম গ্রেডে প্রবেশ পর্যায়ের মূল বেতন ২৪ হাজার টাকা, ১০ম গ্রেডে ৩২ হাজার টাকা এবং ৯ম গ্রেডে ৪৪ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন বেতনস্কেল কার্যকর হয়েছে।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা ১৩তম গ্রেডে থাকায় নতুন কাঠামোয় তাদের প্রবেশ পর্যায়ের মূল বেতন ২৪ হাজার টাকা। অন্যদিকে ১০ম গ্রেডের শিক্ষক পদে ৩২ হাজার এবং ৯ম গ্রেডের প্রভাষকসহ সমমানের পদে শুরুর মূল বেতন ৪৪ হাজার টাকা।

তবে একজন শিক্ষকের প্রকৃত আয় শুধু মূল বেতনের ওপর নির্ভর করে না। বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, উৎসব ভাতা, যাতায়াতসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধাও মোট আয়ের অংশ। বিশেষ করে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দাবি রয়েছে। শিক্ষক সংগঠনগুলোও বিভিন্ন সময়ে বেতন পুনর্নির্ধারণ, বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা সুবিধা বৃদ্ধিসহ নানা দাবি তুলে আসছে।

দায়িত্ব বেড়েছে, প্রত্যাশাও বেড়েছে

বর্তমান সময়ে একজন শিক্ষকের কাজ শুধু পাঠ্যবই পড়ানোয় সীমাবদ্ধ নেই। পাঠ পরিকল্পনা, খাতা মূল্যায়ন, পরীক্ষা গ্রহণ, ফলাফল তৈরি, অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ, সহশিক্ষা কার্যক্রম এবং নানা ধরনের প্রশাসনিক দায়িত্বও পালন করতে হয়।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা। শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ করে তোলা, সৃজনশীলতা বাড়ানো, সমালোচনামূলক চিন্তার বিকাশ এবং মানসিক বিকাশে সহায়তা করার প্রত্যাশাও শিক্ষকদের ওপর আগের তুলনায় অনেক বেশি।

কিন্তু দায়িত্ব ও প্রত্যাশা বৃদ্ধির সঙ্গে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, পেশাগত উন্নয়ন ও কর্মপরিবেশ কতটা এগিয়েছে—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

মেধাবীদের পছন্দে শিক্ষা ক্যাডার কেন পিছিয়ে?

শিক্ষকতা পেশার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার। তবে বিসিএসে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের ক্যাডার পছন্দের তালিকায় শিক্ষা ক্যাডার অনেক সময় শীর্ষে থাকছে না—এমন আলোচনা দীর্ঘদিনের।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি না হওয়া, পর্যাপ্ত পদ না থাকা, ক্যারিয়ার অগ্রগতির অনিশ্চয়তা এবং অন্যান্য ক্যাডারের তুলনায় পেশাগত সুযোগ-সুবিধার পার্থক্য এ অনাগ্রহের অন্যতম কারণ।

শিক্ষা ক্যাডারের পদোন্নতি জটিলতা দূর করতে বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও সাম্প্রতিক সময়ে সামনে এসেছে।

২০২৬ সালে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর শিক্ষা ক্যাডারের সৃজিত পদগুলো ক্যাডার কম্পোজিশনে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য তথ্য চেয়েছে। পাশাপাশি পদোন্নতির জট কমাতে সুপারনিউমারারি পদ সৃষ্টির প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা অর্জনের পরও অনেক কর্মকর্তা বছরের পর বছর একই পদে কর্মরত থাকছেন। ২০২৫ সালেও শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন পদোন্নতি না পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে কর্মসূচি ও কর্মবিরতির হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মেধাবীদের শিক্ষা ক্যাডারে আকৃষ্ট করতে হলে শুধু নিয়োগ বাড়ালেই হবে না। নিয়মিত পদোন্নতি, প্রয়োজনীয় পদ সৃষ্টি, গবেষণা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ এবং সম্মানজনক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ শিক্ষাক্ষেত্রে মেধাবী কর্মকর্তাদের পেশাগত অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হলে এর প্রভাব সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থাতেও পড়তে পারে।

ভারত-নেপালের তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান কোথায়?

শিক্ষকদের বেতন নিয়ে আলোচনায় প্রতিবেশী দেশগুলোর চিত্রও গুরুত্বপূর্ণ। তবে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কায় পদবিন্যাস, বেতন নির্ধারণের পদ্ধতি, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা এক নয়। তাই এখানে কাছাকাছি স্তরের শুরুর মূল বেতনের ভিত্তিতে একটি তুলনা করা হয়েছে।

বাংলাদেশের নতুন বেতনস্কেলে প্রাথমিক পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট গ্রেডে শুরুর মূল বেতন ২৪ হাজার টাকা। ভারতের কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় কাঠামোয় প্রাথমিক শিক্ষক বা পিআরটির শুরুর মূল বেতন ৩৫ হাজার ৪০০ রুপি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৫ হাজার ২০০ টাকা। সে হিসাবে ব্যবধান প্রায় ২১ হাজার ২০০ টাকা।

মাধ্যমিক পর্যায়ে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট ১০ম গ্রেডে শুরুর মূল বেতন ৩২ হাজার টাকা। ভারতে ট্রেইনড গ্র্যাজুয়েট শিক্ষক বা টিজিটির শুরুর মূল বেতন ৪৪ হাজার ৯০০ রুপি, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫৭ হাজার ৩০০ টাকা। ব্যবধান প্রায় ২৫ হাজার ৩০০ টাকা।

উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে ভারতের পোস্ট গ্র্যাজুয়েট শিক্ষক বা পিজিটির শুরুর মূল বেতন ৪৭ হাজার ৬০০ রুপি, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬০ হাজার ৭০০ টাকা। বাংলাদেশের ৯ম গ্রেডের ৪৪ হাজার টাকা মূল বেতনের সঙ্গে তুলনায় পার্থক্য প্রায় ১৬ হাজার ৭০০ টাকা। তবে পিজিটি পদটি বাংলাদেশের কলেজের প্রভাষক পদের সরাসরি সমমান নয়—এ বিষয়টি বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

নেপালেও বেসিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকদের বেতন বাংলাদেশি মুদ্রায় রূপান্তর করলে বাংলাদেশের তুলনায় কিছুটা বেশি দেখা যায়। ২০২৬ সালে ফেডারেল শিক্ষণ সহায়তা অনুদানের আওতায় বেসিক স্তরের শিক্ষকদের মাসিক পারিশ্রমিক ৩৮ হাজার ২০৩ নেপালি রুপি এবং মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকদের ৪৮ হাজার ৫৮ নেপালি রুপি করা হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৩০ হাজার ৬০০ ও ৩৮ হাজার ৪০০ টাকা। অর্থাৎ বাংলাদেশের নতুন বেতনস্কেলের তুলনায় নেপালের বেসিক স্তরে প্রায় ৬ হাজার ৬০০ এবং মাধ্যমিক স্তরে প্রায় ৬ হাজার ৪০০ টাকা বেশি।

শ্রীলঙ্কার ক্ষেত্রে চিত্র আবার ভিন্ন। ২০২৫ সালের সরকারি বেতন কাঠামোয় Teachers Service-এর GE-1 স্কেলের শুরুর মূল বেতন ৫৩ হাজার ৬০ শ্রীলঙ্কান রুপি এবং GE-2 স্কেলের শুরুর মূল বেতন ৬৬ হাজার ৮৮০ রুপি। বাংলাদেশি মুদ্রায় এগুলো প্রায় ১৯ হাজার ৬০০ ও ২৪ হাজার ৭০০ টাকা।

সে হিসাবে বাংলাদেশের ২৪ হাজার টাকার প্রাথমিক স্তরের সংশ্লিষ্ট বেতনের তুলনায় GE-1 প্রায় ৪ হাজার ৪০০ টাকা কম। আবার ৩২ হাজার টাকার সঙ্গে GE-2 তুলনা করলে ব্যবধান প্রায় ৭ হাজার ৩০০ টাকা।

তবে শুধু মূল বেতন দিয়ে কোনো দেশের শিক্ষকদের আর্থিক অবস্থার পূর্ণাঙ্গ তুলনা করা যায় না। বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, উৎসব ভাতা, কর, পেনশন, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতার পার্থক্যও বিবেচনায় নিতে হয়।

বিশ্বেও শিক্ষক সংকট বড় চ্যালেঞ্জ

শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তার পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে এখন বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে শিক্ষক সংকট। ইউনেস্কোর হিসাবে, ২০৩০ সালের মধ্যে সবার জন্য প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে বিশ্বে প্রায় ৪ কোটি ৪০ লাখ অতিরিক্ত শিক্ষক প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে মাধ্যমিক পর্যায়েই প্রয়োজন প্রায় ৩ কোটি ১০ লাখ শিক্ষক।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিক্ষক সংকট মোকাবিলায় তাই শুধু নতুন শিক্ষক নিয়োগের দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে না। যোগ্য শিক্ষককে পেশায় ধরে রাখা, যথাযথ বেতন-ভাতা, নিরাপদ ও কার্যকর কর্মপরিবেশ, প্রশিক্ষণ এবং পেশাগত উন্নয়নের সুযোগ তৈরিও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আন্তর্জাতিক বেতনচিত্রও সব জায়গায় স্বস্তিদায়ক নয়

OECD-এর Education at a Glance 2025-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা ও প্রচলিত যোগ্যতাসম্পন্ন প্রাথমিক শিক্ষকদের গড় বিধিবদ্ধ বার্ষিক বেতন ছিল প্রায় ৫৯ হাজার ৬৭৩ মার্কিন ডলার। নিম্নমাধ্যমিক পর্যায়ে এ গড় প্রায় ৬১ হাজার ৫৬৩ ডলার এবং উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে প্রায় ৬৩ হাজার ৯২৫ ডলার।

তবে OECDভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সরাসরি বেতন তুলনা করার সময় সতর্ক থাকা প্রয়োজন। জীবনযাত্রার ব্যয়, করব্যবস্থা, ক্রয়ক্ষমতা ও অর্থনৈতিক কাঠামোর বড় পার্থক্যের কারণে শুধু ডলারে রূপান্তর করে শিক্ষকদের জীবনমানের তুলনা করলে প্রকৃত চিত্র পাওয়া নাও যেতে পারে।

শিক্ষাবিদদের দৃষ্টিতে শিক্ষকতার মর্যাদা

শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা ও আর্থিক নিরাপত্তা নিয়ে দেশের শিক্ষাবিদদের মধ্যেও দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে।

তাদের মতে, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে শিক্ষককে শুধু পাঠদানের দায়িত্বে থাকা কর্মী হিসেবে দেখলে চলবে না। তাকে একটি মর্যাদাপূর্ণ পেশার অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

শিক্ষাবিদ ও অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ শিক্ষক সমাজের জন্য স্বতন্ত্র ও মর্যাদাপূর্ণ বেতন কাঠামো এবং পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। তার বক্তব্যের মূল ভাবনা ছিল শিক্ষকদের আর্থিক ও পেশাগত নিরাপত্তা কোনো অনুগ্রহ নয়; বরং একটি উন্নত রাষ্ট্র নির্মাণের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

শিক্ষাবিদ ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালও বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের গুরুত্ব এবং শিক্ষক সমাজকে যথাযথ মর্যাদা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন।

শিক্ষককে মর্যাদা দেওয়া মানে শিক্ষাকে মর্যাদা দেওয়া

শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করাও জরুরি। নিয়মিত প্রশিক্ষণ, গবেষণার সুযোগ, আধুনিক শিক্ষাপদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা এবং প্রযুক্তির ব্যবহার শেখানোর ব্যবস্থা থাকতে হবে।

একই সঙ্গে শিক্ষকদের ওপর অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক চাপ কমিয়ে পাঠদানের জন্য কার্যকর কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

সরকারি-বেসরকারি শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধার বৈষম্য কমানো, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে পেশাগত অগ্রগতির সুযোগ তৈরি, অবসরকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষা ক্যাডারের পদোন্নতি জটিলতা দূর করাও সময়ের দাবি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

কারণ একটি দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যারা তৈরি করেন, তাদের নিজেদের পেশাগত ভবিষ্যৎ যদি অনিশ্চিত থাকে, তাহলে একটি শক্তিশালী ও মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা কঠিন।

বিশ্ব শিক্ষক দিবস তাই শুধু শিক্ষকদের শুভেচ্ছা জানানোর আনুষ্ঠানিক দিন নয়। এটি শিক্ষক সমাজের অধিকার, মর্যাদা, নিরাপত্তা ও পেশাগত ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবার উপলক্ষ।

যারা একটি দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলেন, তাদের ভবিষ্যৎও নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ হওয়া জরুরি।

এসআর

সম্পর্কিত খবর