[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

কুবির নতুন ক্যাম্পাসকে গ্রিন করতে বিশেষজ্ঞদের কর্মশালা

কুবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭:৪৬ পিএম

সংগৃহীত ছবি

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) নতুন ক্যাম্পাসকে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই ‘গ্রিন ক্যাম্পাস’ হিসেবে গড়ে তুলতে কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল (আইকিউএসি) এ কর্মশালার আয়োজন করে।

 

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় উপাচার্যের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে গ্রিন ক্যাম্পাস বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের করণীয়, সম্ভাব্য উদ্যোগ ও বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ কাঠামো উপস্থাপন করা হয়।

 

কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করীম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের পাশাপাশি কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ও আইকিউএসি পরিচালক ড. মোহাম্মদ সৈয়দুর রহমান।

 

কর্মশালায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষক এবং পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ও সাবেক উপাচার্য ড. জসিম উদ্দিন আহমদ, রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আহসান হাবিব।

 

এ ছাড়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞানের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. শফি মোহাম্মদ তারেক, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের সাবেক প্রধান অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ হারুণ চৌধুরী, অর্থনীতি ডিসিপ্লিনের সাবেক প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হায়দার এবং সমাজকর্মী নাজমা আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান ও অন্যান্য শিক্ষকও কর্মশালায় অংশ নেন।

 

অনুষ্ঠানের শুরুতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অতীত, বর্তমান অবস্থা, অর্জন ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পরে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সৈয়দুর রহমান গ্রিন ক্যাম্পাস বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্ভাব্য উদ্যোগ, কাজের পদ্ধতি এবং এর সুফল নিয়ে প্রণীত কৌশলগত ফ্রেমওয়ার্ক তুলে ধরেন।

 

প্রেজেন্টেশন শেষে আমন্ত্রিত বিশেষজ্ঞরা পরিকল্পনাটির বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংযোজন, সংশোধন ও পরিমার্জনের বিষয়ে মতামত দেন।

 

কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন বলেন, উপস্থাপিত ফ্রেমওয়ার্কের মাধ্যমে গ্রিন ক্যাম্পাস তৈরির জন্য একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞরা পরিকল্পনাটি পর্যালোচনা করে গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিয়েছেন। তাদের পরামর্শগুলো বিবেচনায় নিয়ে ফ্রেমওয়ার্কটি আরও পরিমার্জন করা হবে।

 

উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমজাদ হোসেন সরকার বলেন, আইকিউএসি টিম স্বল্প সময়ের মধ্যে গ্রিন ক্যাম্পাসের জন্য একটি কাঠামো প্রস্তুত করেছে। এতে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতামত পরিকল্পনাটিকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

 

উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করীম বলেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে দূষণমুক্ত ও পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করা হয়েছে। আরডিপিপি অনুমোদন হলে আগামী ছয় মাসের মধ্যে নতুন ক্যাম্পাসে কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। তাই সেখানে যাওয়ার আগেই কীভাবে ক্যাম্পাসকে গ্রিন ও দূষণমুক্ত রাখা যায়, সে বিষয়ে প্রস্তুতি নিতে হবে।

 

তিনি বলেন, বাংলাদেশের বাস্তবতায় এমন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা চ্যালেঞ্জিং হলেও বিশ্ববিদ্যালয়কে সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে হবে। নতুন শিক্ষার্থীরা যেন শুরু থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবান্ধব ভাবনা ও ভিশনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে, সেটিও পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য।

 

কর্মশালার সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সৈয়দুর রহমান বলেন, উপাচার্যের পরিকল্পনা অনুযায়ী কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে গ্রিন ক্যাম্পাসে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে প্রাথমিক ফ্রেমওয়ার্ক প্রস্তুত করা হয়েছে। কর্মশালায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের সামনে পরিকল্পনাটি তুলে ধরা হয়েছে এবং তাদের পরামর্শ নেওয়া হয়েছে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর