[email protected] শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১০ আশ্বিন ১৪৩৩

অনার্সের ফলের আগেই ঢাবির ১০ শিক্ষার্থী সিভিল জজ হওয়ার সুপারিশপ্রাপ্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯:১৯ পিএম

সংগৃহীত ছবি

অনার্সের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের আগেই বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সাফল্য পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ১০ শিক্ষার্থী।

১৮তম বিজেএস পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলে তারা সিভিল জজ পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।

 

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলাফলে তাদের নাম আসে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার দেশের আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরাই অনার্সের ফল প্রকাশের আগে ‘অ্যাপিয়ার্ড’ প্রার্থী হিসেবে বিজেএস পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পান।

 

আইন বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের এই ১০ শিক্ষার্থী প্রথমবার বিজেএস পরীক্ষায় অংশ নেন। প্রাথমিক বাছাই, লিখিত ও মৌখিক—তিন ধাপ সফলভাবে পেরিয়ে তারা সিভিল জজ পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ পান।

 

সুপারিশপ্রাপ্তরা হলেন—পারভেজ রহমান, হানিফ, শাওলিন আক্তার আলো, মহিউদ্দিন রুমন, ফজলে রুহানি, মাহিয়া মারইয়াম, সুরাইয়া কবির, ফয়সাল প্রিথুল, এস এম বাকীবিল্লাহ ও আইনুল হক।

 

সাফল্যের বিষয়ে পারভেজ রহমান জানান, ১৮তম বিজেএস পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরির জন্য শিক্ষার্থীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আইন বিভাগের অনার্স পরীক্ষা প্রায় দুই মাস এগিয়ে আনা হয়েছিল। এতে তাদের ব্যাচের শিক্ষার্থীরা বিজেএস পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পান।

 

নিজের সাফল্যের পেছনে বাবার অনুপ্রেরণাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন পারভেজ। তার ভাষ্য, বাবাকে আনন্দ দেওয়ার লক্ষ্য থেকেই তিনি নিয়মিত পরিশ্রম করেছেন এবং পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রেখেছেন।

 

অন্যদিকে মাহিয়া মারইয়াম বলেন, কঠোর পরিশ্রম কখনো বৃথা যায় না—এই বিশ্বাস তাকে এগিয়ে যেতে সহায়তা করেছে। মায়ের দেওয়া অনুপ্রেরণাও প্রস্তুতির সময় তাকে সাহস জুগিয়েছে বলে জানান তিনি।

 

মাহিয়া কবির জানান, মাস্টার্সের ক্লাস ও পরীক্ষা সামলানোর পাশাপাশি বিজেএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া তার জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। এরপরও চূড়ান্ত ফলে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়াকে তিনি বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন।

 

সুরাইয়া কবির জানান, জুডিশিয়ারিতে আসা ছিল তার বাবার স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন থেকেই তিনি বিজেএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার অনুপ্রেরণা পেয়েছেন। অনার্সে তার সিজিপিএ ৩ দশমিক ৭৫ এবং নিজ ব্যাচে তিনি দ্বিতীয় হয়েছিলেন বলেও জানান তিনি।

 

প্রথমবার পরীক্ষায় অংশ নিয়েই একই বিভাগের ১০ শিক্ষার্থীর সিভিল জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার ঘটনাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের জন্য উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের এই অর্জন বিভাগের অন্যান্য শিক্ষার্থীদেরও বিচার বিভাগীয় পরীক্ষায় আগ্রহী হতে উৎসাহিত করবে বলে মনে করছেন তারা।

এসআর

সম্পর্কিত খবর