[email protected] রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
১৮ আশ্বিন ১৪৩৩

খুবি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ, মসজিদের মাইকে লোক জড়ো করার চেষ্টা

খুবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৩ অক্টোবর ২০২৬ ৮:৩০ পিএম

সংগৃহীত ছবি

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজনের বিরোধের জেরে হামলার চেষ্টা ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

শিক্ষার্থীদের দাবি, তাদের ওপর হামলার উদ্দেশ্যে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোকজন জড়ো করারও চেষ্টা করা হয়।

 

শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের খাজা গেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

শিক্ষার্থীরা জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে আপত্তিকর পোস্টকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত। সজল নামে এক ব্যক্তি ফেসবুকে এমন একটি পোস্ট দেন এবং নিজেকে বিএল কলেজের শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দেন বলে অভিযোগ। পোস্টটির বিষয়ে তার পরিচয় ও সত্যতা যাচাই করতে কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে খাজা গেট এলাকায় আসতে বলেন।

 

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাহিনুল হক আবির জানান, সজলকে সেখানে আনার সময় স্থানীয় কয়েকজন বাধা দেন। তারা নিজেদের বিএনপি, স্বেচ্ছাসেবক দল কিংবা স্থানীয় ট্রাকস্ট্যান্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে পরিচয় দেন বলে তার দাবি। পরে তাদের সামনে পোস্টটি পড়ে শোনানো হলে স্থানীয় কয়েকজন ওই যুবককে মারধর শুরু করেন।

 

তার ভাষ্য, পোস্টটি বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে হওয়ায় শিক্ষার্থীরা বিষয়টির সমাধান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মাধ্যমে করতে চেয়েছিলেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে ওই যুবককে নিরাপত্তার জন্য ক্যাম্পাসের ভেতরে নেওয়া হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

 

আর্কিটেকচার ডিসিপ্লিনের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রাসেল আহমেদ রাতুল বলেন, কয়েকজন স্থানীয় মুরুব্বি বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য খাজা গেটে আসেন। সেখানে কথাবার্তার একপর্যায়ে তাদের মধ্যে থাকা দুজন সজলকে মারধর শুরু করেন। শিক্ষার্থীরা বাধা দিয়ে তাকে ক্যাম্পাসের ভেতরে নেওয়ার চেষ্টা করলে বাইরে থাকা কয়েকজন সেখানে এসে গেট নিয়ে ধাক্কাধাক্কি করেন।

 

তিনি দাবি করেন, একপর্যায়ে গেট কিছুটা ফাঁকা করে ওই যুবককে টেনে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে শিক্ষার্থীরা তাকে ক্যাম্পাসসংলগ্ন এলাকা থেকে আবার ধরে এনে ডিএসএর কাছে হস্তান্তর করেন।

 

শিক্ষার্থীদের দাবি, সজলের মোবাইল ফোনে মাদকসংক্রান্ত কথোপকথন ও বার্তার তথ্য পাওয়া যায়। এ নিয়ে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কথা কাটাকাটিও হয়।

 

পরে স্থানীয় বাসিন্দা বাবু, মনিরুজ্জামান লেলিন ও রহিমের নেতৃত্বে আরও কিছু লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হন বলে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ। সজলকে মারধর করে সেখান থেকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হলে শিক্ষার্থীরা তাকে ফিরিয়ে এনে বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের দাবি জানান।

 

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, একপর্যায়ে স্থানীয়দের সঙ্গে আসা কয়েকজন তাদের ওপর হামলার চেষ্টা করেন এবং ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন। একই সময়ে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে লোকজন জড়ো করার চেষ্টা করা হয় বলেও তারা দাবি করেন।

 

ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও উত্তেজনার ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে শিক্ষার্থীরা জানান। পরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে তারা সেখান থেকে সরে যান। কিছুক্ষণ পর শিক্ষার্থীরা দলবদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে গেলে সেখানে থাকা লোকজন চলে যায়।

 

এ ঘটনায় ফেসবুকে পোস্ট দেওয়া সজলকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সালাউদ্দিন বলেন, ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি পুলিশের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার তদন্তের অনুরোধ করেছেন। মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়ার সঙ্গে কারা জড়িত এবং এর পেছনে কারা রয়েছে, তাদের শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে যে অভিযোগ দেওয়া হবে, সেখানেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করা হবে।

 

খুলনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন বলেন, উভয় পক্ষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি থেকে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক, প্রভোস্ট ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে আলোচনা করে বিষয়টির সমাধান করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর