ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রধান ফটক থেকে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ নাম
মুছে ফেলে পুনরায় ‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’ লেখা হচ্ছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে হলের ফটকে থাকা নামটি মুছে ফেলার কাজ শুরু হয়।
জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর এই হলটির নাম পরিবর্তনের সূত্রপাত হয়। গত বছরের ডিসেম্বরে শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর হলটির নাম পরিবর্তনের দাবি ওঠে। গত ১৯ ডিসেম্বর রাতে হল সংসদের নেতারা হলের সামনে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ লেখা পোস্টার টানিয়ে দেন এবং পরদিন ক্রেন এনে মূল ফটক থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের নাম মুছে ‘শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হল’ লেখা হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি আনুষ্ঠানিক রূপ পায় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের সভায় শেখ মুজিবুর রহমান হলসহ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল ও অন্যান্য কয়েকটি স্থাপনার নাম পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছিল।
তবে প্রায় নয় মাসের ব্যবধানে আবারও হলটির নামফলকে পরিবর্তন আনা হলো। শহীদ ওসমান হাদি নাম পরিবর্তনের বিষয়ে হল সংসদের ভিপি মুসলিমুর রহমান বলেন, তারা ঢাবিতে কোনো ফ্যাসিস্টের নাম রাখার বিপক্ষে এবং শিক্ষার্থীদের দাবির মুখেই নামটি লিখেছিলেন, যা সিনেট হয়ে বর্তমানে সিন্ডিকেটে অধিকতর বিবেচনার অধীনে রয়েছে।
অন্যদিকে, শেখ মুজিবুর রহমান হল ছাত্রদলের সদস্য সচিব সিহাব হোসেন শাহেদ জানান, বিশ্ববিদ্যালয় বিধি ও অফিসিয়াল প্রক্রিয়া মেনে হল প্রশাসনের মাধ্যমে মূল গেটে আবার অফিসিয়াল নাম ‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’ স্থান পাচ্ছে। ছাত্রদল সাময়িক প্রতিশ্রুতি বা মবোক্রেসিতে বিশ্বাসী নয়, বরং টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে বিশ্বাস করে।
হলের নাম পুনর্বহালের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী জানান, গত সিনেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোর আগের নাম বহাল রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। ফলে সিনেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বর্তমানে হলটির অফিসিয়াল নাম পুনর্বহালের কাজ চলছে।
এসআর