[email protected] বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকারি স্কুলে ভর্তিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটাসহ ১৪ শতাংশ আসন সংরক্ষণের প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮:১৬ পিএম

সংগৃহীত ছবি

২০২৭ শিক্ষাবর্ষে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তি প্রক্রিয়ায় নতুন নিয়ম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ লক্ষ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) একটি খসড়া নীতিমালা তৈরি করে অনুমোদনের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে।

 

প্রস্তাবিত নীতিমালা অনুযায়ী, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ছয়টি ক্যাটাগরিতে মোট ১৪ শতাংশ আসন সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে। আর বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে একটি অতিরিক্ত ক্যাটাগরি যুক্ত করে মোট ১৫ শতাংশ কোটা রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। সব প্রক্রিয়া ঠিক থাকলে আগামী ৫ অক্টোবরের মধ্যে নীতিমালাটি চূড়ান্ত হতে পারে।

 

মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ জানিয়েছেন, খসড়াটি অনুমোদনের এখতিয়ার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের। প্রয়োজনে মন্ত্রণালয় এতে সংশোধন আনতে পারে।

 

যে ছয় ক্যাটাগরিতে কোটা

খসড়া অনুযায়ী, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ আসন সংরক্ষিত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ সুবিধা পেতে আবেদনপত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সনদের সত্যায়িত কপি দিতে হবে এবং ভর্তির সময় মূল সনদ দেখাতে হবে। যাচাই শেষে ভর্তি নিশ্চিত করা হবে। এ শ্রেণিতে যোগ্য আবেদনকারী না থাকলে আসন সাধারণ প্রার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

 

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য ২ শতাংশ আসন রাখার প্রস্তাব রয়েছে। নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণের পাশাপাশি ভর্তির সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়ন জমা দিতে হবে। এই কোটায় আসন খালি থাকলে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে তা পূরণের বিধান রাখা হয়েছে।

 

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ১ শতাংশ এবং মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর ও সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য আরও ১ শতাংশ আসন রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অফিস প্রধানের প্রত্যয়নপত্র আবেদনের সঙ্গে জমা দিতে হবে।

 

এ ছাড়া যমজ ভাই-বোনের জন্য ২ শতাংশ এবং সহোদর ভাই-বোনের জন্য ৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের প্রস্তাব রয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট ক্যাটাগরিতে আবেদনকারী না পাওয়া গেলে নির্দিষ্ট শর্তে এক কোটার আসন অন্য কোটার প্রার্থীদের দিয়ে পূরণের সুযোগ থাকবে। কোনো অবস্থাতেই এসব আসন খালি না রাখার কথা বলা হয়েছে।

 

খসড়া নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, যমজ বা সহোদর-সহোদরার সুবিধা কোনো দম্পতির সর্বোচ্চ তিন সন্তানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

 

বেসরকারি স্কুলে অতিরিক্ত কোটা

বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সরকারি বিদ্যালয়ের প্রস্তাবিত ১৪ শতাংশের বাইরে আরও ১ শতাংশ কোটা রাখার কথা বলা হয়েছে। লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের শিশুদের মূলধারার শিক্ষায় যুক্ত করতে এ সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। তারা নিকটবর্তী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাবে।

 

ঢাকার ক্যাচমেন্ট এলাকায় ৪০ শতাংশ আসন

খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী, ঢাকা মহানগরীর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আশপাশের নির্ধারিত ক্যাচমেন্ট এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য ৪০ শতাংশ আসন সংরক্ষণ করতে হবে। মাউশি এসব বিদ্যালয়ের ক্যাচমেন্ট এলাকা নির্ধারণ করে সংশ্লিষ্টদের জানাবে।

 

এ ছাড়া ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির সময় বিদ্যালয়ের মোট আসনের ১০ শতাংশ স্বতন্ত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

 

বদলি হওয়া সরকারি কর্মকর্তাদের সন্তানদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর কর্মস্থল পরিবর্তন হলে নির্দিষ্ট শর্তে তাদের সন্তানদের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। বদলির আদেশের তারিখ থেকে ১০ মাসের মধ্যে প্রমাণপত্রসহ সংশ্লিষ্ট ভর্তি কমিটির সভাপতির কাছে আবেদন করতে হবে।

 

মহানগর, সিটি করপোরেশন ও বিভাগীয় শহরের ক্ষেত্রে নতুন কর্মস্থল আগের কর্মস্থল থেকে ১০ কিলোমিটারের বেশি দূরে হলে কর্মস্থলের কাছাকাছি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সন্তানের ভর্তির সুযোগ থাকবে। জেলা, উপজেলা ও থানার ক্ষেত্রে নিকটবর্তী সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

 

বদলির কারণে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের ভর্তির জন্য প্রতি শ্রেণি শাখায় মোট আসনের অতিরিক্ত ৫ শতাংশ সংরক্ষণের প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকারি বিদ্যালয়ে আগে থেকেই পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীরা এ ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে। কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী পরবর্তীতে আগের কর্মস্থলে বদলি হয়ে ফিরলে তার সন্তানকে আগের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পুনরায় ভর্তির সুযোগ দেওয়ার কথাও খসড়ায় উল্লেখ রয়েছে।

 

এ ছাড়া কোনো শিক্ষার্থী একটি শিক্ষা বোর্ডের অধীন প্রতিষ্ঠান থেকে নির্বাচিত হয়ে অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে বোর্ডকে অবহিত করতে হবে। পরে শিক্ষা বোর্ড ওই শিক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন-সংক্রান্ত তথ্য হালনাগাদ করবে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর