খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংলগ্ন ইসলামনগর সড়কের একটি ৪ তলা ভবনের ছাদে চুরির
অভিযোগে মারধর ও চুল কেটে দেওয়ার পর আজমুল হোসেন (২২) নামের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। নিহত আজমুল চুয়াডাঙ্গার দর্শনার বাসিন্দা এবং নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। গত শুক্রবার মধ্যরাতে মেসের শিক্ষার্থীরা তাকে আটক করে মারধর করে এবং পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্সে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও মেসের শিক্ষার্থীদের দাবি, জিনিসপত্র চুরির কথা স্বীকার করার পর তাকে ছাদে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ, চড়-থাপ্পড় ও চুল কেটে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে স্বজনদের ফোনে বিষয়টি জানিয়ে ক্ষতিপূরণ চাওয়া নিয়ে বাকবিতণ্ডা হয়। মেসের কিছু শিক্ষার্থীর ভাষ্যমতে, জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালে পিচ্ছিল ছাদ থেকে আজমুল লাফ দিয়ে নিচে পড়ে যান। অন্যদিকে, নিহত শিক্ষার্থীর বাবার অভিযোগ, তার কাছে ফোনে এক লাখ টাকা দাবি করা হয় এবং অতিরিক্ত পিটুনি দিয়েই তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গুরুতর আহত অবস্থায় আনা হলেও ১০-১৫ মিনিটের মধ্যে ওই ছাত্র মারা যান এবং তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও কাটা চুলের চিহ্ন ছিল। হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন জানান, বিষয়টি তারা অবগত আছেন এবং পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিষয়ক পরিচালক জানান, ঘটনাটি ক্যাম্পাসের বাইরে ঘটলেও তারা পুলিশকে প্রশাসনিক সহায়তা দিচ্ছেন।
এসআর