চীনের শি’আনে অনুষ্ঠিত এশিয়া-প্যাসিফিক স্পেস কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এপিএসসিও) কিউবস্যাট প্রতিযোগিতা (এসিসি) সামার ক্যাম্পে বাংলাদেশি একটি গবেষক দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন ড. শাহনেওয়াজ সিদ্দিকী।
১২ থেকে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত নর্থওয়েস্টার্ন পলিটেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন দেশের গবেষক ও অংশগ্রহণকারীরা কিউবস্যাট প্রযুক্তির ব্যবহারিক বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশিক্ষণ নেন।
ড. শাহনেওয়াজ সিদ্দিকী নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির (এনএসইউ) ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সঙ্গে যুক্ত। সামার ক্যাম্পে অংশগ্রহণকারীদের কিউবস্যাটের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সাবসিস্টেম সম্পর্কে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
এর মধ্যে ছিল অনবোর্ড কম্পিউটিং, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, যোগাযোগ প্রযুক্তি, বিদ্যুৎ সরবরাহ, কাঠামোগত সংযোজন, তাপ নিয়ন্ত্রণ এবং গ্রাউন্ড স্টেশনের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের বিষয়গুলো।
চীনের শীর্ষস্থানীয় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম নর্থওয়েস্টার্ন পলিটেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সেখানে কিউবস্যাটের নকশা, বিভিন্ন প্রযুক্তিগত উপাদানের সমন্বয় এবং বাস্তব প্রয়োগ সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের ধারণা দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ থেকে ড. শাহনেওয়াজের নেতৃত্বাধীন দলটি স্পারসোর সমন্বয়ে একটি প্রতিযোগিতামূলক বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়।
এপিএসসিওর বাংলাদেশি ফোকাল এজেন্সি বাংলাদেশ স্পেস রিসার্চ অ্যান্ড রিমোট সেন্সিং অর্গানাইজেশন (স্পারসো) এ কর্মসূচির জন্য দলগুলোর কাছ থেকে কিউবস্যাটের নকশা আহ্বান করে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ড. শাহনেওয়াজের নেতৃত্বাধীন দল তাদের প্রস্তাবিত কিউবস্যাটের বিস্তারিত নকশা জমা দেয়। এপিএসসিওর বিশেষজ্ঞদের একটি প্যানেল এসব নকশা পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন করে।
নির্বাচিত হওয়ার পরই বাংলাদেশি দলটি চীনে অনুষ্ঠিত সামার ক্যাম্পে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়।
প্রশিক্ষণ শেষে এখন কিউবস্যাট প্রকল্পটির পরবর্তী ধাপে কাজ করবে বাংলাদেশি গবেষক দল।
এ পর্যায়ে প্রস্তাবিত কিউবস্যাটের ইঞ্জিনিয়ারিং মডেল তৈরি, বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং প্রযুক্তিগত যাচাইয়ের কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এমন কর্মসূচিতে বাংলাদেশের গবেষকদের অংশগ্রহণ দেশের মহাকাশবিজ্ঞান ও কিউবস্যাট প্রযুক্তিতে দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করছে।
একই সঙ্গে দেশে স্যাটেলাইট প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা ও প্রকৌশল সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।