সরকারি চাকরির তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির পদে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ জাতীয় ছাত্রশক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সরকারি চাকরিতে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও মেধার মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।
তাই এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
কর্মসূচিতে বাংলাদেশ জাতীয় ছাত্রশক্তি ববি শাখার মুখ্য সংগঠক শহিদুল ইসলাম শাহেদ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইমরান আল আমিন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম ওয়াহিদুর রহমান, আহ্বায়ক মোহাম্মদ বেলালসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধনে এস এম ওয়াহিদুর রহমান অভিযোগ করেন, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির সরকারি চাকরিতে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ৫০ শতাংশ নম্বর নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি করতে পারে।
তার দাবি, এতে ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের মাধ্যমে অর্জিত প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তিনি সিদ্ধান্তটির প্রতিবাদ জানিয়ে সাধারণ মানুষকেও এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে, সংগঠনটির ববি শাখার আহ্বায়ক মোহাম্মদ বেলাল বলেন, সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাবের সুযোগ তৈরি হলে মেধাবী ও সাধারণ চাকরিপ্রত্যাশীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
তার মতে, একজন শিক্ষার্থী পড়াশোনা শেষ করে যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরিতে প্রবেশের সুযোগ প্রত্যাশা করেন। সেখানে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দলীয়করণের আশঙ্কা তৈরি হলে তা আগের সময়ের বিতর্কিত নিয়োগ ব্যবস্থার চেয়েও গুরুতর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
তিনি সরকারের প্রতি সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দাবি বাস্তবায়ন না হলে শিক্ষার্থীরা আবারও আন্দোলনে নামতে বাধ্য হতে পারেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন।
উল্লেখ্য, গত ৬ সেপ্টেম্বর প্রশাসনিক উন্নয়নসংক্রান্ত সচিব কমিটির বৈঠকে মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং এর আওতাধীন দপ্তর-সংস্থায় ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিতে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় সমান নম্বর রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এসব পদে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় ৫০ শতাংশ করে নম্বর নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।
এসআর