আগামী শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে মাইগ্রেশন সুবিধা বাতিলের আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে সরকার।
ফলে শিক্ষার্থীরা পূর্বের নিয়মেই ভর্তির পর মাইগ্রেশনের সুযোগ পাবেন।
শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির অনলাইন আবেদন শুরু হবে।
আবেদন করা যাবে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। নির্ধারিত প্রক্রিয়া শেষে ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। আর ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশের ক্লাস শুরু করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এবারও এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতেই একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। কোনো ধরনের ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে না।
কেন্দ্রীয় অনলাইন ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আবেদন নেওয়ার পর ফলাফল, পছন্দক্রম এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কোটা বিবেচনা করে প্রতিষ্ঠান নির্ধারণ করা হবে।
আগের বছরগুলোতে একাদশে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীরা কয়েকটি ধাপে আবেদন করার সুযোগ পেলেও এবার প্রথম পর্যায়ে একবারই আবেদন করতে পারবেন।
নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে একজন শিক্ষার্থী সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা সমমানের প্রতিষ্ঠানের পছন্দক্রম দিতে পারবেন।
অনলাইনে আবেদন ও ভর্তির কেন্দ্রীয় কার্যক্রম ঢাকা শিক্ষা বোর্ড পরিচালনা করে।
এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে।
কলেজ ও মাদ্রাসাগুলোতে এই কেন্দ্রীয় পদ্ধতিতে ভর্তি হলেও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর ভর্তি কার্যক্রম আলাদা নিয়মে হয়। নটর ডেম কলেজসহ ঢাকার কয়েকটি প্রতিষ্ঠানও এই কেন্দ্রীয় ভর্তি ব্যবস্থার বাইরে রয়েছে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ২ থেকে ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীকে অনলাইনে আবেদন করতে হবে।
যারা এসএসসি বা সমমানের ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছে, তাদেরও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করতে হবে। পুনর্নিরীক্ষণের পর কারও ফল পরিবর্তিত হলে তার জন্য পরবর্তী সময়ে নতুন করে আবেদনের সুযোগ রাখা হবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, পুনর্নিরীক্ষণের ফল পরিবর্তন হওয়া শিক্ষার্থীরা ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর আবেদন করার সুযোগ পেতে পারেন।
এরপর যাচাই-বাছাই শেষে ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর ভর্তি সম্পন্ন করার কথা রয়েছে। ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস শুরুর প্রস্তাব করা হয়েছে।
এ ছাড়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো কলেজে ভর্তির জন্য মনোনয়ন না পাওয়া, পছন্দের প্রতিষ্ঠান না পাওয়া কিংবা কোনো কারণে আবেদন করতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্যও পরবর্তী সময়ে আবেদনের সুযোগ রাখা হবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা বোর্ড।
এদিকে, চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য চার লাখের বেশি শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন। এসব শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে মোট আবেদনের সংখ্যা প্রায় ১৩ লাখ।
এর মধ্যে তাত্ত্বিক পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন রয়েছে ১০ লাখ ৫৬ হাজারের বেশি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার খাতার জন্য আবেদন পড়েছে দুই লাখ ৩১ হাজারের বেশি।
গত ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এবার মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। অর্থাৎ উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি।
অন্যদিকে, সারা দেশে কলেজ ও মাদ্রাসা মিলিয়ে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য প্রায় ২৫ লাখ আসন রয়েছে।
শিক্ষার্থীসংখ্যার তুলনায় আসন বেশি থাকায় এবারও বিপুলসংখ্যক আসন খালি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে পর্যাপ্ত আসন থাকলেও ভালো ফল করা সব শিক্ষার্থী পছন্দের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারবেন না।
কারণ নামী ও চাহিদাসম্পন্ন কলেজগুলোতে আসন সীমিত।
এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে এক লাখ ১৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী। এর মধ্যে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে এক লাখ ছয় হাজার নয়জন।
এসআর