ক্যাশ আউটের জন্য নির্ধারিত অর্থের বাইরে অতিরিক্ত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে।
পরে অভিযুক্তরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে ক্ষমা চেয়ে ভবিষ্যতে ন্যায্যমূল্যে ব্যবসা করার অঙ্গীকার করে মুচলেকা দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি) সংলগ্ন মার্কেটে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী নাঈম ভূঁইয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। অভিযুক্তদের মধ্যে শরীফুল ইসলাম ও মো. তারিকুল ইসলাম আপন ভাই বলে জানা গেছে। অপর অভিযুক্ত একই এলাকার আরেক ব্যবসায়ী। তারা সবাই টিটিসির সামনের এলাকায় ব্যবসা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী, ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সকালে নাঈম তার সহপাঠী নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে টিটিসির সামনে একটি দোকানে বিকাশে ক্যাশ আউট করতে যান। এ সময় দোকানদার শরীফুল অতিরিক্ত ১০ টাকা দাবি করেন। এ নিয়ে নাঈমের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।
একপর্যায়ে বিষয়টি হাতাহাতিতে গড়ায় বলে অভিযোগ করেন নাঈম। তার দাবি, শরীফুল তাকে মারধর শুরু করেন। পরে তারিকুলসহ আরও একজন ব্যবসায়ী সেখানে এসে তাকে ধস্তাধস্তি করে দোকানের ভেতরে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
অভিযোগ রয়েছে, এ সময় আশপাশের কয়েকজন ব্যবসায়ীও ঘটনাস্থলে জড়ো হন এবং নাঈমকে ‘চাঁদাবাজ’ আখ্যা দিয়ে তাকে আটকে রাখার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে নাঈমের সঙ্গে থাকা ইমতিয়াজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষার্থীদের বিষয়টি জানান। পরে কয়েকজন শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে গিয়ে নাঈমকে সেখান থেকে নিয়ে আসেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়। পরে শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত তিন ব্যবসায়ীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়ে নিয়ে যান।
প্রক্টর কার্যালয়ে অভিযুক্তরা নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে ক্ষমা চান। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে শিক্ষার্থী বা ক্রেতাদের হয়রানি না করা, কোনো ধরনের ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটে যুক্ত না হওয়া এবং টিটিসি এলাকায় ন্যায্যমূল্যে পণ্য ও সেবা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে লিখিত মুচলেকা দেন।
ভুক্তভোগী নাঈম ভূঁইয়া বলেন, ক্যাশ আউটের সময় অতিরিক্ত ১০ টাকা দাবি করা হলে তিনি এর প্রতিবাদ করেন। কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে আশপাশের কয়েকজন ব্যবসায়ীও তাকে মারধর ও আটকে রাখার চেষ্টা করেন বলে দাবি করেন নাঈম।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, টিটিসি এলাকার ব্যবসায়ীদের মধ্যে একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। ভবিষ্যতে যেন সাধারণ ক্রেতা ও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় বা হয়রানি না করা হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে কুবির সহকারী প্রক্টর আবু বকর সিদ্দিক মাসুম বলেন, টিটিসির সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে অপমানজনকভাবে আখ্যায়িত করার পাশাপাশি মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি প্রশাসনের কাছে অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত ও অন্যায় মনে হয়েছে। শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্তদের প্রক্টর কার্যালয়ে এনে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, অভিযুক্তরা ভবিষ্যতে কোনো ধরনের ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটে না জড়িয়ে ন্যায্যমূল্যে ব্যবসা পরিচালনার অঙ্গীকার করেছেন।
এসআর