বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) ইংরেজি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র মুসা হোসাইনের
বিরুদ্ধে এক নবীন নারী শিক্ষার্থীকে ইভটিজিং, র্যাগিং এবং শারীরিক ও মানসিক হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে।
ক্যাম্পাসে সার্বিক নিরাপত্তা ও ঘটনার বিচার চেয়ে গত ১৭ আগস্ট (সোমবার) প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী।
লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৯ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টায় ক্যাম্পাসের গ্যারেজ এলাকায় ওই ছাত্রীকে আটকে জোরপূর্বক ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও মোবাইল নম্বর দাবি করেন মুসা। অস্বীকৃতি জানালে সিনিয়র হিসেবে আগামী চার বছর দেখে নেওয়ার হুমকি দেন তিনি।
গত ১৫ আগস্ট সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে দুই ছেলে সহপাঠী (এস.আই জিনারুল ও ফাহিম মুনতাসীর তাসরিফ) নিয়ে ফেরার পথে মুসা পুনরায় তাদের গতিরোধ করেন। এ সময় তিনি ভুক্তভোগীর হাত ধরে টেনে ও বই ছিনিয়ে নিয়ে জোরপূর্বক ‘১১ চত্বর’ ও পরে ‘হতাশা চত্বরে’ নিয়ে যান।
সেখানে ভুক্তভোগীকে ছেলে ব্যাচমেটদের সাথে চলাফেরা করতে নিষেধ করা হয় এবং ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যম দিতে চাপ প্রয়োগ করা হয়। পাশাপাশি তাঁর পরিবার ও পারিবারিক শিক্ষা নিয়ে কটু কথা বলা হয় এবং তাঁর সহপাঠীদের জোরপূর্বক তাড়িয়ে দেওয়া হয়।
ধারাবাহিক এসব হুমকির কারণে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী চরম মানসিক আঘাত ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
বিভাগীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে প্রক্টর দপ্তরে অভিযোগটি জমা হওয়ার পর প্রক্টর ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। কমিটিকে আগামী ৩ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, এই হেনস্তার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই গত ১৫ আগস্ট শনিবার রাত ৯টায় অর্থনীতি ও ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মাঝে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যেখানে দুই বিভাগের মোট ১০ জন শিক্ষার্থী আহত হন।
এসআর