[email protected] বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬
৪ ভাদ্র ১৪৩৩

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির আবেদন শুরু ২১ আগস্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮ আগষ্ট ২০২৬ ৯:২১ পিএম

সংগৃহীত ছবি

বেসরকারি এমপিওভুক্ত স্কুল ও কলেজের শিক্ষকদের বদলির জন্য অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু হবে আগামী শুক্রবার (২১ আগস্ট)।

আবেদন করার সুযোগ থাকবে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত।

 

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেন মাউশির মাধ্যমিক শাখার পরিচালক অধ্যাপক মো. সাখাওয়াত হোসেন খান।

 

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, একজন শিক্ষক সর্বোচ্চ তিনটি প্রতিষ্ঠানে পছন্দের ক্রমানুসারে বদলির আবেদন করতে পারবেন। বদলি নীতিমালার নির্ধারিত শর্ত পূরণের পর সফটওয়্যারের মাধ্যমে আবেদন যাচাই করা হবে। এরপর যোগ্যতার ভিত্তিতে কর্তৃপক্ষ বদলির আদেশ দেবে।

 

শিক্ষকেরা নিজ জেলায় বদলির আবেদন করতে পারবেন। তবে নিজ জেলায় সংশ্লিষ্ট বিষয়ে শূন্যপদ না থাকলে একই বিভাগের অন্য জেলায় শূন্যপদের বিপরীতে আবেদন করার সুযোগ থাকবে।

 

এ ছাড়া স্বামী বা স্ত্রীর নিজ জেলা কিংবা স্বামী বা স্ত্রী সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত অথবা এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকলে সেই জেলায় বদলির আবেদন করা যাবে।

 

মাউশি জানিয়েছে, অনলাইন সফটওয়্যারে কোনো প্রতিষ্ঠানের দেওয়া তথ্য ভুল থাকলে এর দায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানের পাশাপাশি আবেদনকারী শিক্ষকের ওপরও বর্তাবে।

 

আবেদনের যোগ্যতা

চাকরিতে অন্তত দুই বছর পূর্ণ হলে একজন শিক্ষক বদলির আবেদন করতে পারবেন। একবার বদলি হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার পর সেখানে ন্যূনতম দুই বছর চাকরি সম্পন্ন না করা পর্যন্ত পরবর্তী বদলির আবেদন করা যাবে না।

 

ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য দিয়ে করা আবেদন বাতিল বলে গণ্য হবে। একই সঙ্গে কোনো শিক্ষকের এমপিও স্থগিত থাকলে, তিনি সাময়িক বরখাস্ত থাকলে কিংবা তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা চলমান থাকলে বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন না।

 

বদলির আদেশ জারির পর ১০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানকে শিক্ষককে অবমুক্ত করতে হবে। এরপর অবমুক্ত হওয়ার পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে।

 

মাউশি জানিয়েছে, ২০২৬ সালে প্রণীত সংশোধিত বদলি নীতিমালার ভিত্তিতেই এবার আবেদন যাচাই ও বদলির কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।

 

নীতিমালায় যেসব পরিবর্তন

গত ৬ মে জারি করা সংশোধিত নীতিমালায় বেসরকারি স্কুল-কলেজের সহকারী শিক্ষক, প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপকদের পাশাপাশি অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রদর্শক ও ট্রেড ইনস্ট্রাক্টরদের সমপর্যায়ের প্রতিষ্ঠানে বদলির সুযোগ রাখা হয়েছে।

 

এটি এমপিওভুক্ত বেসরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের বদলি নিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের চতুর্থ নীতিমালা। এর আগের তিনটি নীতিমালায় বিভিন্ন কারণে শিক্ষকরা ব্যাপকভাবে বদলির সুযোগ পাননি।

 

২০২৪ সালের ১ আগস্ট প্রথমবার পারস্পরিক আবেদনের ভিত্তিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির নীতিমালা করা হয়। পরে ওই শর্ত শিথিল করে একই বছরের ১৯ ডিসেম্বর এনটিআরসিএর সুপারিশে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের বদলির সুযোগ দেওয়া হয়।

 

২০১৫ সালের আগে পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকরা বদলির সুযোগ থেকে বাদ পড়ার অভিযোগ তুলে আদালতের দ্বারস্থ হন। পরে চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি সব এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের শিক্ষকের জন্য বদলির সুযোগ রেখে নতুন নীতিমালা করা হয়। এরপর ৬ মে সেটি সংশোধন করে প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধানদেরও বদলির আওতায় আনা হয়।

 

দেশে বর্তমানে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ।

অনলাইনে আবেদন: ngttdshe.teletalk.com.bd

এসআর

সম্পর্কিত খবর