বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা, উদ্ভাবন ও শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে শিল্পখাতের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ ও নিয়মিত অংশীদারত্ব গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন।
শনিবার খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবান অ্যান্ড রিজিওনাল প্ল্যানিং (ইউআরপি) থিয়েটারে ‘ইউনিভার্সিটি-ইন্ডাস্ট্রি কলাবোরেশন: এন্ট্রাপ্রেনারশিপ, ইনোভেশন অ্যান্ড সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স সেল (আইকিউএসি) অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে।
অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচালিত গবেষণা ও উদ্ভাবন যেন শিল্পখাতের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে, সে জন্য একটি কার্যকর ‘শেয়ারিং উইন্ডো’ তৈরি করা দরকার। এতে গবেষণার ধারণা, অর্থায়ন ও প্রয়োজনীয় দক্ষতার বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি একাডেমিয়া ও শিল্পখাতের দূরত্ব কমিয়ে নতুন উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ গড়ে তোলা সহজ হবে।
শিক্ষার্থীদের বাস্তব কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতার সঙ্গে পরিচিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। স্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞ ও সফল ব্যক্তিদের নিয়মিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে আমন্ত্রণ জানিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাঁদের মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরির পরামর্শ দেন ইউজিসির এই সদস্য।
তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তির একাডেমিক ডিগ্রির পাশাপাশি তাঁর বাস্তব কর্মজীবনের অভিজ্ঞতাও শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। শিল্পখাতের দক্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ বাড়লে ভবিষ্যতে চাকরি ও ক্যারিয়ারের সুযোগও সম্প্রসারিত হবে।
অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে স্থানীয় শিল্প ও প্রতিষ্ঠানের একটি সমন্বিত তালিকা তৈরির পরামর্শ দেন। এরপর পর্যায়ক্রমে এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করতে হবে। এ জন্য কেবল আনুষ্ঠানিক নির্দেশনার অপেক্ষায় না থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেই সক্রিয়ভাবে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শিক্ষার্থীদের চাকরির পেছনে ছোটা প্রার্থী না বানিয়ে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। উদ্ভাবনী প্রকল্প ও স্টার্টআপ তৈরিতে সরকারি সহায়তা ও অর্থায়নের সুযোগ কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইনোভেশন সেন্টার স্থাপন ও উদ্ভাবনী উদ্যোগে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
শিল্পখাতের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রম ও শিক্ষা কার্যক্রম সাজানোর কথাও বলেন ইউজিসি সদস্য। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে কোন ধরনের দক্ষতার চাহিদা রয়েছে, তা চিহ্নিত করে শিক্ষার্থীদের সেই অনুযায়ী প্রস্তুত করার ওপর জোর দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করলে প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা সম্ভব। এ জন্য একাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রি সহযোগিতাকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক ও টেকসই কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসার উদ্যোগ প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামান সরকার, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হারুনর রশিদ খান এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. নূরুন্নবী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম।
স্বাগত বক্তব্য দেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইকিউএসি পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান।
আয়োজকেরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার, শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হিসেবে প্রস্তুত করা, নতুন উদ্ভাবনকে উৎসাহ দেওয়া এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়েছে।
এসআর