সুন্দরবনের জলদস্যুদের দাপট, বনজীবী ও জেলেদের আতঙ্ক, দস্যুদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং তাদের আত্মসমর্পণের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার নানা অভিজ্ঞতা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরবেন সাংবাদিক ও লেখক মোহসীন-উল হাকিম।
মোহসীন-উল হাকিম দীর্ঘদিন ধরে উপকূলীয় মানুষের জীবন, সুন্দরবন এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নানা সমস্যা নিয়ে মাঠপর্যায়ে সাংবাদিকতা করছেন। যমুনা টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার সময় সুন্দরবনের জলদস্যুদের কর্মকাণ্ড ও তাদের প্রভাব নিয়ে তিনি ব্যাপকভাবে প্রতিবেদন করেছেন।
দস্যুদের নিয়ে তাঁর কাজ একসময় সংবাদ পরিবেশনের গণ্ডি পেরিয়ে যায়। সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের আত্মসমর্পণ এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার প্রক্রিয়াতেও তিনি ভূমিকা রাখেন। ২০১৫-১৬ সালের দিকে ‘মাস্টার বাহিনী’র সদস্যদের আত্মসমর্পণ নিয়ে যে যোগাযোগ ও উদ্যোগ তৈরি হয়েছিল, সেখানেও তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল বলে জানা যায়।
সুন্দরবনের জলদস্যুদের অপরাধজগত, জীবনযাপন এবং আত্মসমর্পণের পর পুনরায় সমাজে ফেরার নানা ঘটনা নিয়ে তিনি ‘সুন্দরবনের জলদস্যুদের জীবনে ফেরার গল্প’ নামে একটি বই লেখেন। ২০২১ সালে প্রকাশিত বইটিতে জলদস্যুতার নেপথ্যের বিভিন্ন দিক ও তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে।
সুন্দরবনকেন্দ্রিক সাংবাদিকতার জন্য ২০২২ সালে পশ্চিমবঙ্গে ‘শুধু সুন্দরবন চর্চা পুরস্কার’ পান মোহসীন-উল হাকিম। সুন্দরবনের জলদস্যুদের নিয়ে তাঁর কাজের স্বীকৃতি হিসেবে এ পুরস্কার দেওয়া হয়।
উপকূলীয় মানুষের জীবন ও নিরাপত্তার সংকট নিয়ে কাজ করতে গিয়ে সুন্দরবনের জলদস্যুদের বিষয়টি তাঁর সাংবাদিকতায় গুরুত্ব পায়। ২০০৯ সালের ঘূর্ণিঝড় আইলার পর উপকূলের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় কাজ করার সময় জেলেদের কাছ থেকে জলদস্যুদের আতঙ্কের কথা জানতে পারেন তিনি। এরপর বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেন এবং পরবর্তী সময়ে একাধিকবার সুন্দরবনে গিয়ে দস্যুদের কর্মকাণ্ড ও জীবনযাপন সম্পর্কে সরাসরি অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
আলোচনা সভায় মাঠপর্যায়ে সাংবাদিকতা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সংবাদ সংগ্রহ, প্রান্তিক মানুষের কথা গণমাধ্যমে তুলে ধরা এবং সাংবাদিকদের সামাজিক দায়িত্বসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলার কথা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য বাস্তব অভিজ্ঞতাভিত্তিক এ আলোচনা সাংবাদিকতার পেশাগত দিক সম্পর্কে ধারণা তৈরিতে সহায়ক হবে বলে আয়োজকরা মনে করছেন।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির নতুন নেতৃত্বের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হবে। এ সময় ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার মানোন্নয়ন, সাংবাদিকতা চর্চা এবং শিক্ষার্থীদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয়েও আলোচনা হবে।
আয়োজকদের মতে, সাংবাদিকতার সঙ্গে সামাজিক দায়িত্বের সম্পর্ক আরও স্পষ্ট করা এবং শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল সাংবাদিকতায় উৎসাহিত করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। মাঠের অভিজ্ঞতা ও বাস্তব ঘটনা তুলে ধরে মোহসীন-উল হাকিমের আলোচনা শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা হয়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা তাদের।
এসআর