[email protected] রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
৮ ভাদ্র ১৪৩৩

শিক্ষক নিয়োগে ম্যানেজিং কমিটির ক্ষমতার প্রতিবাদ, ইবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

ইবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১১ আগষ্ট ২০২৬ ৯:০১ পিএম

সংগৃহীত ছবি

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) কেন্দ্রীয় সুপারিশ ব্যবস্থা বহাল রাখার দাবিতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা।

একই সঙ্গে ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের প্রস্তাবিত সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন তারা।

 

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এর আগে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সড়ক ঘুরে প্রধান ফটকের সামনে এসে শেষ হলে সেখানে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

 

কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। এর মধ্যে ছিল—‘জেগেছে রে জেগেছে, ছাত্রসমাজ জেগেছে’, ‘চাচা না চাকরি, চাকরি চাকরি’, ‘মেধা না চাকরি, চাকরি চাকরি’, ‘শিক্ষা না বাণিজ্য, শিক্ষা শিক্ষা’ এবং ‘কোটা গেছে যেই পথে, কমিটি যাবে সেই পথে’।

 

মানববন্ধনে ইবি শাখা ছাত্রশিবির, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন, ছাত্র ইউনিয়ন, জমিয়তে তালাবিয়া আরাবিয়া, জাতীয় ছাত্রশক্তিসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

 

কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, এনটিআরসিএর কেন্দ্রীয় সুপারিশের মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগে মেধা ও যোগ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু নিয়োগের ক্ষমতা ম্যানেজিং কমিটি কিংবা গভর্নিং বডির হাতে গেলে স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থের বিনিময়ে নিয়োগের আশঙ্কা বাড়তে পারে। তাই তারা বিদ্যমান এনটিআরসিএভিত্তিক কেন্দ্রীয় নিয়োগ ব্যবস্থা অব্যাহত রাখার দাবি জানান।

 

জাতীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক ফুয়াদ হাসান বলেন, এনটিআরসিএর পরিবর্তে ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের একটি রেজুলেশন প্রকাশের পর শিক্ষামন্ত্রীর ফেসবুক পেজ থেকে জানানো হয়েছে, এটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। এ অবস্থায় মন্ত্রণালয়ের রেজুলেশন ও ফেসবুক পোস্টের মধ্যে কোনটি কার্যকর, তা স্পষ্ট করার দাবি জানান তিনি।

 

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি ঝুলিয়ে না রেখে আগের রেজুলেশন লিখিতভাবে প্রত্যাহার করতে হবে। ম্যানেজিং কমিটির হাতে নিয়োগের ক্ষমতা গেলে নিয়োগ বাণিজ্য, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির সুযোগ তৈরি হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

ইবি শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মো. রাশেদুল ইসলাম রাহীম বলেন, ২০১৮ সালের আন্দোলনের পর ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা বিলুপ্ত করা হয়েছিল। স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগে ম্যানেজিং কমিটির পরিবর্তে এনটিআরসিএর মাধ্যমে স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক পদ্ধতি চালু রাখার দাবি জানান তিনি।

 

তার ভাষ্য, প্রয়োজনে আইন প্রণয়নের মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের দায়িত্ব স্থায়ীভাবে এনটিআরসিএর হাতে রাখা উচিত। অতীতে প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষ নিয়োগে ম্যানেজিং কমিটির ক্ষমতা থাকায় রাজনৈতিক প্রভাব, তদবির ও দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন।

 

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক এসএম সুইট বলেন, এনটিআরসিএর নিয়োগ পদ্ধতিতে প্রস্তাবিত পরিবর্তন প্রত্যাহার না হলে শিক্ষার্থীরা তা মেনে নেবে না। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা না হলে ইবির সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। পাশাপাশি দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবিও জানান।

 

এর আগে সোমবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়, বেসরকারি স্কুল-কলেজে প্রবেশ পর্যায়ের শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এতে এনটিআরসিএর কেন্দ্রীয় সুপারিশের ব্যবস্থা আর থাকবে না বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। খবরটি প্রকাশের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন।

 

তবে পরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি জানান, এনটিআরসিএর কার্যক্রম ও শিক্ষক নিয়োগ পদ্ধতিকে আরও স্বচ্ছ, দক্ষ ও কার্যকর করার উপায় নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনা চলছে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে বিভ্রান্তিকর বা অপতথ্য প্রচার না করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এসআর

সম্পর্কিত খবর