[email protected] সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬
২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

বুটেক্সে হামলার প্রতিবাদে ‘ছাত্র-শিক্ষক সংহতি’ কর্মসূচি

বুটেক্স প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৯ আগষ্ট ২০২৬ ৯:২২ পিএম

সংগৃহীত ফাইল

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুটেক্স) শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ‘সন্ত্রাস রুখতে ছাত্র-শিক্ষক সংহতি’ শীর্ষক কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

হামলার ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি এবং ক্যাম্পাসে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।


রোববার (৯ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের পকেট গেটসংলগ্ন কদমতলায় কর্মসূচিটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক এবং বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।


কর্মসূচিতে ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. ইমদাদ সরকার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসে দলীয় ছাত্ররাজনীতির প্রভাবের কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নানা ধরনের হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।

২০২৪ সালে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্যাম্পাসে সব ধরনের ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল। সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দায়িত্ব প্রশাসনের।


তিনি হলে অবৈধভাবে অবস্থান করা শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি হামলার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।


ক্যাম্পাসের আইনশৃঙ্খলা বিধি কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. সুলতান মাহমুদ বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো ক্যাম্পাসে সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ফিরে আসার আশঙ্কা তৈরি করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ব্যর্থ হলে এর দায় তাদেরই নিতে হবে।


তিনি ছাত্ররাজনীতির বিষয়ে প্রশাসনের স্পষ্ট অবস্থান প্রত্যাশা করেন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধরে একাডেমিক কার্যক্রমে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে সাংস্কৃতিক ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ক্যাম্পাস সচল রাখার কথা বলেন।


হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্স বিভাগের প্রভাষক ইহসান এলাহী সাবিক বলেন, ন্যায়বিচারের দাবিতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে অবস্থান নেওয়া কাম্য না হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে এটি প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির প্রতি সমর্থন জানানো শিক্ষকদের দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


বুটেক্সকে সহিংসতা, হল দখল ও অপরাজনীতি থেকে মুক্ত রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের আহ্বান জানান এই শিক্ষক। একই সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।


শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ৪৯তম ব্যাচের কাজী মুহা. ওসমান মাহদী বলেন, শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের অভিভাবকের মতো। সংকটের সময়ে শিক্ষকরা পাশে দাঁড়ানোয় শিক্ষার্থীরা নিজেদের দাবির বিষয়ে আরও দৃঢ় হওয়ার সাহস পাচ্ছেন।


তিনি অভিযোগ করেন, হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত তারা ক্লাস, ল্যাব ও পরীক্ষায় অংশ নেবেন না।


কর্মসূচির শেষ দিকে শিক্ষার্থীরা সাত দফা দাবি উত্থাপন করেন। পরে প্রতিবাদের অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি হলের সামনে শান্তিপূর্ণ মিছিল ও প্রদক্ষিণ করেন তারা।


ঘটনার সূত্রপাত
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে গত ৬ আগস্ট বুটেক্সের ৪৯তম ব্যাচের চার শিক্ষার্থী হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবিতে শিক্ষার্থীরা প্রেস ব্রিফিংসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন।

এসআর

সম্পর্কিত খবর