বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদটি দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ হিসেবে রাষ্ট্রের ঐক্য, গণতান্ত্রিক
মূল্যবোধ এবং সংবিধানে জনগণের আস্থা রক্ষার প্রতীক। এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিত্বের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে এক মতামতমূলক প্রবন্ধে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী জাহিন আবদুল্লাহ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিবেচনা করার পেছনে বিভিন্ন যুক্তি ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন।
প্রবন্ধটিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত পটভূমি বিশদভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে জন্মগ্রহণকারী ফখরুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন এবং ১৯৬০-এর দশক ও ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। রাজনীতিতে আসার পূর্বে ১৯৭২ সালে ঢাকা কলেজে অর্থনীতির শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন এবং পরবর্তীতে সরকারি প্রশাসনেও দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর এই শিক্ষকতা, অর্থনীতি চর্চা ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা পরবর্তীতে তাঁর রাজনৈতিক দূরদর্শিতা গঠনে ভূমিকা রেখেছে বলে মন্তব্য করেন কলামিস্ট।
পরবর্তীকালে তিনি জাতীয় রাজনীতি ও বিএনপির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য হন এবং তৎকালিন বিএনপি সরকারে কৃষি ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। দলীয় রাজনীতিতেও তিনি দীর্ঘ পথ অতিক্রম করেছেন—২০০৯ সালে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, ২০১১ সালে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং ২০১৬ সাল থেকে অদ্যাবধি বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
জাহিন আবদুল্লাহর মতে, মির্জা ফখরুলের অর্থনীতিতে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা রাষ্ট্রীয় নীতি, জাতীয় বাজেট ও উন্নয়ন বাস্তবতা মূল্যায়নে সহায়ক হতে পারে। তবে একজন সফল রাষ্ট্রপতি হওয়ার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে পুরো জাতির ঐক্যের প্রতীক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করা।
প্রবন্ধের শেষাংশে বলা হয়, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা, রাজনৈতিক বিভাজনের মাঝে সহনশীলতা তৈরি এবং জাতীয় সংকট নিরসনে রাষ্ট্রপতির নিরপেক্ষ ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নিয়ে রাজনৈতিক সমর্থনে ভিন্নতা ও সমালোচনা থাকা সত্ত্বেও, যদি তিনি কখনও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় দেশের রাষ্ট্রপতি পদে আসীন হন, তবে তাঁর মূল দায়িত্ব হবে কোনো দলীয় পরিচয়ে আবদ্ধ না থেকে সংবিধান, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন সমুন্নত রেখে সমগ্র দেশের 'জনগণের রাষ্ট্রপতি' হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা।
এসআর