দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ ঔষধি উদ্ভিদ ও ফাইটোকেমিক্যাল ডাটাবেজ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা রেখেছেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) শিক্ষার্থী ইসমাইল হোসেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানিমেল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন ডিসিপ্লিনের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী।
ইসমাইল হোসেন গত দুই বছর ধরে দেশের প্রথম বায়োইনফরম্যাটিক্স প্রতিষ্ঠান 'ডন অব বায়োইনফরম্যাটিক্স লিমিটেড'-এর 'বাংলাদেশ মেডিসিনাল প্ল্যান্টস অ্যান্ড ফাইটোকেমিক্যালস ডেটাবেস' (বিএমপিপিডি) প্রকল্পে গবেষণা সদস্য হিসেবে যুক্ত আছেন। ডাটাবেজটি তৈরিতে তিনি তথ্য সংগ্রহ ও পরিমার্জন (ডাটা কিউরেশন) এবং বায়োইনফরম্যাটিক্স বিশ্লেষণ উভয় ক্ষেত্রেই কাজ করেছেন। ভেটেরিনারি বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী হিসেবে ঔষধি উদ্ভিদ ও প্রাণিজ চিকিৎসার সমন্বয়ে তাঁর এই কাজকে বিশেষ গুরুত্বের সাথে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রকল্পে নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে ইসমাইল হোসেন বলেন, বাংলাদেশে বহু বছর ধরে লোকজ চিকিৎসার অংশ হিসেবে ঔষধি উদ্ভিদের ব্যবহার হয়ে আসছে। তবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা ঐতিহ্যের এই মৌখিক জ্ঞানভাণ্ডারের কোনো লিখিত দলিল ছিল না। মৌখিক ঐতিহ্য ও আধুনিক বিজ্ঞানের মাঝে সেতু গড়ে তোলার লক্ষ্যে তৈরি এই বিজ্ঞানসম্মত উপাত্তভাণ্ডার ‘বিএমপিপিডি’-এর অংশ হতে পেরে তিনি আনন্দ প্রকাশ করেন।
ডন অব বায়োইনফরম্যাটিক্স-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও এস কে ফয়সাল আহমেদ জানান, বিএমপিপিডি-র প্রতিটি যৌগে জীবনরক্ষাকারী ওষুধের সম্ভাব্য সূত্র লুকিয়ে থাকতে পারে। বায়োইনফরম্যাটিক্সের সাহায্যে দক্ষিণ এশিয়ার ঔষধি ঐতিহ্যকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার এখনই উপযুক্ত সময় এবং এই যাত্রায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
উল্লেখ্য, 'বাংলাদেশ মেডিসিনাল প্ল্যান্টস অ্যান্ড ফাইটোকেমিক্যালস ডাটাবেস' (বিএমপিপিডি) হলো ডন অব বায়োইনফরম্যাটিক্স লিমিটেডের গবেষণা বিভাগ 'ডন আই ল্যাব' নির্মিত একটি উন্মুক্ত (ওপেন-অ্যাক্সেস) গবেষণা ডাটাবেস। এই তথ্যভাণ্ডারে ৭০০টির বেশি ঔষধি উদ্ভিদ, প্রায় ১ লাখ ১৩ হাজার ৪০০টি ফাইটোকেমিক্যাল এন্ট্রি এবং প্রায় ৬৩ হাজার ৯০০টি স্বতন্ত্র (ইউনিক) রাসায়নিক যৌগের তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে, যা গবেষক ও ওষুধ আবিষ্কার-সংশ্লিষ্ট কাজে বিশেষ সহায়ক হবে।
এসআর