রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক আম্মারের বিরুদ্ধে এক সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ও দুই শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ ঘিরে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন।
সোমবার (২৭ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, একসময় ডাকসু, রাকসুসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা নেতৃত্ব, বক্তব্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য প্রশংসিত ছিলেন।
তবে বর্তমানে কিছু ছাত্রনেতার ভাষা ও আচরণ হতাশাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অধ্যাপক মামুন বলেন, কোনো ব্যক্তি ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেই তাকে মারধর করা বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে আইনগত প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলেও তিনি মত দেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাংবাদিকরা প্রায়ই তাকে প্রশ্ন করেন—ছাত্রলীগ-সংশ্লিষ্ট অনেক সাবেক শিক্ষার্থী ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারায় তা দেশের জন্য ক্ষতির কারণ কি না।
জবাবে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন শিক্ষার বাইরে থাকলে এসব শিক্ষার্থী হতাশায় ভুগতে পারে, যা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের জন্য নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করতে পারে।
সমাধানের প্রস্তাব হিসেবে তিনি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি অপরাধ বা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে এমন শিক্ষার্থীদের আলাদা করে চিহ্নিত করতে পারে।
অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি যাদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ নেই, তাদের নিয়মিত শিক্ষাজীবনে ফিরে আসার সুযোগ দেওয়া উচিত।
ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও দাবি করেন, অতীতে বিভিন্ন বাস্তবতায় অনেক শিক্ষার্থী ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।
কেউ আবাসিক হলে থাকার সুযোগের জন্য, আবার কেউ সংগঠনের চাপে এমনটি করতে বাধ্য হয়েছেন।
একই সঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কিছু নেতারও অতীতে ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ছিল।
অধ্যাপক মামুনের ভাষ্য, শুধু কোনো সংগঠনের সঙ্গে পূর্বের সম্পৃক্ততার ভিত্তিতে সবাইকে একইভাবে মূল্যায়ন করা ন্যায়বিচারের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তিনি বলেন, আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেই রাষ্ট্র পরিচালিত হওয়া উচিত।
এসআর