[email protected] সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
১১ শ্রাবণ ১৪৩৩

বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের বদলি-পদায়নে নতুন নীতিমালা প্রকাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ জুলাই ২০২৬ ১:৫৭ এএম

সংগৃহীত ছবি

বিসিএস (সাধারণ) শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়ন প্রক্রিয়াকে আরও সুশৃঙ্খল ও দ্রুততর করতে নতুন নীতিমালা প্রকাশ করেছে সরকার।

রোববার জারি করা ‘বিসিএস (সাধারণ) শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের বদলি/পদায়ন নীতিমালা, ২০২৬’ অনুযায়ী সরকারি কলেজে কর্মরত শিক্ষা ক্যাডারের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়নের আবেদন নির্ধারিত নিয়মে নিষ্পত্তি করা হবে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, প্রশাসনিক প্রয়োজন কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার আবেদনের ভিত্তিতে বদলি বা পদায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে জনস্বার্থে সরকার প্রয়োজনে যেকোনো সময় যেকোনো কর্মকর্তা বা শিক্ষককে অন্য কর্মস্থলে দায়িত্ব দিতে পারবে।

নতুন বিধান অনুযায়ী, নবনিয়োগপ্রাপ্ত প্রভাষকদের চাকরির দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আগে সাধারণভাবে বদলির আবেদন গ্রহণ করা হবে না। একই শর্ত অন্যান্য শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। তবে গুরুতর শারীরিক, মানসিক বা পারিবারিক সমস্যার মতো বিশেষ পরিস্থিতিতে দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আগেও আবেদন করা যাবে, যা সরকার যুক্তিসংগত বিবেচনায় নিষ্পত্তি করবে।

স্বামী-স্ত্রী উভয়েই সরকারি চাকরিতে থাকলে একজনের কর্মস্থল বা কাছাকাছি প্রতিষ্ঠানে অন্যজনের বদলি বা পদায়নের সুযোগ রাখা হয়েছে। এছাড়া অবসর-পূর্ব প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে (পিআরএল) যাওয়ার এক বছর আগে সুবিধাজনক স্থানে বদলির আবেদন করলে শূন্য পদ সাপেক্ষে তা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচিত হবে।

নীতিমালায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অসম্পূর্ণ তথ্য বা হালনাগাদ পার্সোনাল ডাটা শিট (পিডিএস) ছাড়া জমা দেওয়া আবেদন গ্রহণ করা হবে না। আবেদন মূল্যায়নের সময় ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পরিস্থিতি, পেশাগত প্রয়োজন, দূরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হওয়ার বিষয় এবং নিজ জেলা থেকে কর্মস্থলের দূরত্বসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হবে।

বদলির আবেদন নির্ধারিত কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় আদেশ জারি করা হবে। পাশাপাশি উপজেলা ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের সরকারি কলেজে শূন্য পদ পূরণে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও নীতিমালায় বলা হয়েছে।

বদলি-পদায়নের ক্ষমতায় পরিবর্তন

নতুন নীতিমালার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বদলি ও পদায়নের ক্ষমতার আংশিক বিকেন্দ্রীকরণ।

এখন থেকে প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপক পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের বদলি বা পদায়নের দায়িত্ব পালন করবেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক।

অন্যদিকে সহযোগী অধ্যাপক, অধ্যাপকসহ উচ্চপদস্থ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের বদলি বা পদায়নের ক্ষমতা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছেই থাকবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এই পরিবর্তনের ফলে বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্য পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বদলির আবেদন আগের তুলনায় দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর