খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনসহ ক্যাম্পাসের সব ভবনের তালা খুলে দিয়েছেন।
তবে তাদের তিন দফা দাবি সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
এর ফলে রোববার (২৬ জুলাই) থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হলেও একাডেমিক কার্যক্রম এখনো স্থগিত রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যায় প্রশাসনের সঙ্গে শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের আলোচনা এবং শিক্ষকদের পক্ষ থেকে আন্দোলনের দাবির প্রতি সমর্থন জানানোর পর রাত ১০টার দিকে ভবনগুলোর তালা খুলে দেওয়া হয়।
পরে রাত পৌনে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও তদন্ত কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে শিক্ষার্থীরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের দেওয়া পৃথক বিবৃতিতে জানানো হয়, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নেবেন না।
এর আগে শনিবার বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের প্রধানরা নিজ নিজ বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এসব বৈঠকে যৌন অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্তদের বিচার নিশ্চিত করার দাবির প্রতি শিক্ষকরা সংহতি প্রকাশ করেন।
পরে বিকেলে উপাচার্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় উপ-উপাচার্য, ট্রেজারার, বিভিন্ন স্কুলের ডিন, ডিসিপ্লিন প্রধান, ছাত্রবিষয়ক পরিচালক, হল প্রভোস্ট ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন। সভায় শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো নিয়ে আলোচনা হয় এবং দাবি বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হয়।
এ সময় বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তিবিদ্যা স্কুলের ডিন অধ্যাপক মো. আশরাফুল আলম এবং ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রধান অধ্যাপক মো. নবীউল ইসলাম খানকে ২২ ব্যাচের শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার দায়িত্ব দেওয়া হয়। ওই আলোচনা শেষে প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখতে ভবনগুলোর তালা খুলে দেন আন্দোলনকারীরা।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানিয়ে জানিয়েছে, উত্থাপিত দাবিগুলোর বিষয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে শিক্ষার্থীরা তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছেন। চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের পরিচালিত ‘টু টু (Two Two)’ ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম বর্জন অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে দাবি বাস্তবায়নের আগে শিক্ষার্থীদের ওপর কোনো ধরনের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ চাপ প্রয়োগ না করার আহ্বান জানানো হয়। দাবি বাস্তবায়নের পর স্থগিত হওয়া পরীক্ষার নতুন সূচি দ্রুত প্রকাশেরও অনুরোধ জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এবং বিজয়’২৪ হলের ক্যানটিনকর্মীর বিরুদ্ধে ছাত্রীদের গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগের বিচার দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেন। পরে প্রশাসনের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনায় প্রত্যাশিত অগ্রগতি না হওয়ায় গত বৃহস্পতিবার প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনগুলোতে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে রয়েছে—ভিডিও ধারণের অভিযোগে অভিযুক্ত ক্যানটিনকর্মী ইমাম হাসানের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট হল প্রশাসনের জবাবদিহি নিশ্চিত করা, যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত বাংলা ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক রুবেল আনছার ও অ্যাগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক রেজাউল ইসলামের স্থায়ী বহিষ্কার এবং ‘স্পন্দন-২৪’ ক্লাবের নিবন্ধন বাতিল।
এর আগে বিজয়’২৪ হলের ছাত্রীদের শৌচাগার ও গোসলখানার ভেন্টিলেটর দিয়ে গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগে ক্যানটিনকর্মী ইমাম হাসানকে আটক করে শিক্ষার্থীরা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। একই ঘটনায় তার স্ত্রীকেও গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া পৃথক সময়ে দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠার পর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও শিক্ষার্থীরা তাদের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন।
এসআর