[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
৩১ আষাঢ় ১৪৩৩

কুবিতে বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ১১৭ শিক্ষার্থীর হাতে মেধাবৃত্তি

কুবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৫ জুলাই ২০২৬ ৮:৫৫ পিএম

সংগৃহীত ছবি

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মেধাবৃত্তি কর্মসূচির আওতায় ১১৭ জন মেধাবী ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীর মাঝে বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অনুষদের হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব শিক্ষার্থীর হাতে বৃত্তির সনদ ও সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

 

অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সজল চন্দ্র মজুমদারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল হাকিম এবং প্রকৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মাহমুদুল হাছান। এছাড়া বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, বিভাগীয় প্রধান ও শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

 

 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল হাকিম বলেন, একজন শিক্ষার্থীর সাফল্য শুধু ভালো ফলাফলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মানবিকতা, নৈতিকতা, শিষ্টাচার ও সুন্দর আচরণ একজন আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি শিক্ষার্থীদের এসব গুণাবলি চর্চার আহ্বান জানান।

কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, একাডেমিক কৃতিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে এই বৃত্তি শিক্ষার্থীদের জন্য বড় প্রেরণা। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স, বায়োটেকনোলজি, সাইবার নিরাপত্তা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির মতো আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি সৃজনশীলতা, সমালোচনামূলক চিন্তা, যোগাযোগ দক্ষতা, দলগত কাজ ও নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম বলেন, মেধাবৃত্তির আর্থিক সহায়তার চেয়ে এর স্বীকৃতি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের জন্য বেশি অনুপ্রেরণাদায়ক। তিনি শিক্ষার্থীদের গবেষণা ও উদ্ভাবনমূলক কার্যক্রমে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার সুযোগ ও অর্থায়ন বাড়ানো হয়েছে এবং স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরাও গবেষণা অনুদান পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

 

তিনি আরও বলেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় সফর করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়ে আগ্রহী। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন সফরের সুযোগ তৈরি হলে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী কার্যক্রম ও সাফল্য তুলে ধরার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম আরও বৃদ্ধি পাবে।

 

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. সজল চন্দ্র মজুমদার বলেন, মেধাবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ রাখতে হবে। ভালো ফলাফলের পাশাপাশি এআই-সংক্রান্ত জ্ঞান, ডিজিটাল দক্ষতা, যোগাযোগ ক্ষমতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জনের ওপর তিনি গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক উন্নয়নে নিয়মিত পরামর্শ, অনুপ্রেরণা এবং সুস্থ প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

 

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে মেধাবী, অসচ্ছল মেধাবী এবং ক্রীড়া—এই তিনটি ক্যাটাগরিতে মোট ৪০২ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়া হবে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর