কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) আবাসিক হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের জন্য চালু করা ‘ইয়োর ক্যাম্পাস’ সেবা কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান গেট-এইড লিমিটেড পর্যাপ্ত আয় না হওয়ার কারণ দেখিয়ে ভেন্ডিং মেশিনের কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে। বর্তমানে কেবল কয়েকটি হলে ওয়াশিং মেশিন সীমিত পরিসরে চালু রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি গেট-এইড লিমিটেডের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি আবাসিক হলের জন্য একটি এক্সক্লুসিভ চুক্তি হয়। ওই চুক্তির আওতায় প্রতিষ্ঠানটিকে বিনামূল্যে স্থান ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়। বিনিময়ে ভেন্ডিং মেশিন, ওয়াশিং স্টেশন, স্মার্ট লকার ও স্মার্ট বিনসহ বিভিন্ন আধুনিক সেবা দেওয়ার কথা ছিল।
তবে দেড় বছরের বেশি সময় পার হলেও প্রতিশ্রুত সব সুবিধা বাস্তবায়ন হয়নি। তিনটি হলে ভেন্ডিং মেশিন ও ওয়াশিং স্টেশন চালু হলেও দুটি হলে কেবল ওয়াশিং মেশিন বসানো হয়। স্মার্ট লকার ও স্মার্ট বিন এখনো চালু হয়নি। এছাড়া ২০২৫ সালের অক্টোবর-নভেম্বরের পর থেকেই ভেন্ডিং মেশিনগুলো বন্ধ রয়েছে।
সম্প্রতি ওয়াশিং মেশিনও কয়েক দিন অচল ছিল। পরে গত ৫ জুলাই তা আবার চালু করা হয়।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ক্যাম্পাসে সেবা পরিচালনা থেকে যে আয় হচ্ছে তা ব্যয়ের তুলনায় অনেক কম। এ কারণে তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে মাসিক ভর্তুকি চেয়েছিল। কিন্তু চুক্তিতে এমন কোনো আর্থিক দায় না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সেই দাবি গ্রহণ করেনি। এরপরই ভেন্ডিং সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়।
ইয়োর ক্যাম্পাসের কুবি শাখার প্রতিনিধি মো. শাহরিয়ার হোসেন অমিত বলেন, শুরুতে বিক্রি ভালো থাকলেও পরে তা কমে যায়। নেটওয়ার্ক সমস্যার সমাধান করা হলেও কাঙ্ক্ষিত আয় হয়নি। কোম্পানি মাসিক ভর্তুকি চাইলেও তা না পাওয়ায় তারা ভেন্ডিং সেবা বন্ধ রেখেছে। তিনি জানান, ভবিষ্যতে ক্যাম্পাস থেকে পুরো কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার বিষয়েও প্রতিষ্ঠানটি ভাবছে।
সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা নানা সমস্যার কথা জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, রাতের বেলা দোকানপাট বন্ধ থাকলে ভেন্ডিং মেশিনই ছিল সহজে খাবার পাওয়ার একমাত্র মাধ্যম। এখন সেই সুবিধা না থাকায় বিশেষ করে পরীক্ষার সময় ও গভীর রাতে ভোগান্তি বাড়ছে।
হল প্রশাসনের কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত আয় না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি সেবা বন্ধ করেছে এবং মেশিনগুলো সরিয়ে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
বিজয়-২৪ হলের প্রাধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান খান বলেন, প্রত্যাশিত বিক্রি না হওয়ায় কোম্পানি তাদের ব্যয় তুলতে পারছে না। তাই তারা সেবা চালিয়ে যেতে আগ্রহী নয়। ভর্তুকির দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, হলের নিজস্ব ব্যয় মেটাতেই যেখানে চ্যালেঞ্জ রয়েছে, সেখানে অতিরিক্ত ভর্তুকি দেওয়া সম্ভব নয়।
কাজী নজরুল ইসলাম হলের প্রাধ্যক্ষ মো. হারুনও একই ধরনের বক্তব্য দিয়ে বলেন, কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে আর্থিক ভর্তুকি দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে সম্ভব নয়।
এসআর