[email protected] রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
২৮ আষাঢ় ১৪৩৩

কুবিতে ‘জুলাই প্রতিরোধ দিবস’ উদযাপন

কুবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১২ জুলাই ২০২৬ ১০:০৫ পিএম

সংগৃহীত ছবি

জুলাই আন্দোলনের প্রথম সহিংস পুলিশি হামলা এবং তার বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা প্রতিরোধের স্মরণে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ‘জুলাই প্রতিরোধ দিবস’ পালন করা হয়েছে।

রোববার (১২ জুলাই) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ‘প্রতিরোধ দিবস’ উদ্‌যাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার। প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করীম।

মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সদস্য ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তারিন বিনতে এনাম ও আইসিটি বিভাগের প্রভাষক মবিনুর রহমান।

 

পবিত্র ধর্মগ্রন্থ পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং জুলাই আন্দোলনে নিহত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবদুল কাইয়ুমের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে দেশাত্মবোধক গান, জুলাই আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভূমিকা নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র প্রদর্শন এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সহায়তাকারীদের স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠিত হয়।

 

শিক্ষার্থীদের বক্তব্যে ক্যাম্পাসে ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজন, ছাত্ররাজনীতি চালুর পরিবেশ সৃষ্টি এবং নতুন ও পুরোনো ক্যাম্পাসের মধ্যে সংযোগ সড়ক নির্মাণের দাবি জানানো হয়।

 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলন কেবল সরকার পরিবর্তনের জন্য নয়, বরং একটি ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। তিনি আইনের শাসন, মেধার মূল্যায়ন, গবেষণা এবং মানবিক মূল্যবোধকে রাষ্ট্র পরিচালনার ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল বলেন, ইতিহাস শুধু অতীতের স্মৃতি নয়, ভবিষ্যতের পথনির্দেশকও। অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া, সত্য ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি অবিচল থাকা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করীম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মূল লক্ষ্য ‘স্টুডেন্ট ফার্স্ট’ নীতি বাস্তবায়ন। তিনি জানান, জুলাই আন্দোলনে ছাত্রীদের অবদান স্মরণীয় করে রাখতে ক্যাম্পাসে ‘অরুণিমা কর্নার’ নামে একটি বিশেষ সুবিধাকেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেখানে স্বাস্থ্যসম্মত ওয়াশরুম, নামাজের স্থান, বিশ্রামাগার এবং প্রয়োজন হলে ব্রেস্টফিডিং কর্নারের ব্যবস্থাও থাকবে।

 

মুখ্য আলোচক ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস বলেন, জুলাই আন্দোলনের সাফল্যের অন্যতম শক্তি ছিল সর্বস্তরের মানুষের ঐক্য। তিনি শিক্ষার মান উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের আবাসন, খাদ্য ও যাতায়াত সুবিধা বাড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।

 

সরকারি চাকরির নিয়োগপ্রক্রিয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সংস্কার কার্যকর হয়েছে। প্রশ্নফাঁস প্রতিরোধ এবং মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার সফলভাবে আয়োজন সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এসআর

সম্পর্কিত খবর