মায়ের স্বপ্ন পূরণে পিএইচডি, টেক্সটাইল প্রকৌশলী থেকে অধ্যাপক ড. শাকিল ফয়জুল্লাহর অনন্য যাত্রা।
নব্বইয়ের দশকে ঢাকার তেজগাঁওয়ে অবস্থিত তৎকালীন কলেজ অব টেক্সটাইল টেকনোলজি (বর্তমান বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়-বুটেক্স) থেকে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা করেন তিনি।
শিক্ষাজীবনে শুধু একাডেমিক কার্যক্রমেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না; সহপাঠীদের নিয়ে প্রতিষ্ঠানে একটি বিতর্ক ক্লাব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর উদ্যোগে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা হয়।
বিতর্কচর্চার সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা শুরু হয় স্কুলজীবনে। ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনের জাতীয় স্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতায় তাঁর নেতৃত্বাধীন দল চ্যাম্পিয়ন হয় এবং তিনি শ্রেষ্ঠ বক্তার স্বীকৃতি পান।
পাশাপাশি নাট্যচর্চাতেও যুক্ত ছিলেন। তাঁর মতে, সহশিক্ষা কার্যক্রম একজন শিক্ষার্থীর চিন্তাশক্তি ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
স্নাতক শেষ করার আগেই তিনি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির সঙ্গে কাজ শুরু করেন।
পরে ২০০৫ সালে যুক্তরাজ্যের গোল্ডস্মিথস, ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে মিডিয়া, কমিউনিকেশন অ্যান্ড কালচারাল স্টাডিজ বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
ওই সময় পিএইচডির সুযোগ পেলেও মায়ের অসুস্থতার কারণে দেশে ফিরে আসেন এবং দীর্ঘ সময় তাঁর পাশে থাকেন।
পেশাগত জীবনে তিনি জাতিসংঘের বাংলাদেশ রেসিডেন্ট কো-অর্ডিনেটর অফিস, ইউএনডিপি বাংলাদেশ এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ও গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট পদে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ইউনিসেফের সাপ্লাই ডিভিশনে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনেও কর্মরত ছিলেন।
দুই দশকের বেশি সময় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করার পর ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার জন্য যান।
ইউনিভার্সিটি অব জর্জিয়ার গ্র্যাডি কলেজ অব জার্নালিজম অ্যান্ড মাস কমিউনিকেশন থেকে অ্যাডভার্টাইজিং অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিষয়ে পিএইচডি সম্পন্ন করেন।
তাঁর গবেষণার প্রধান বিষয় ছিল প্রযুক্তিগতভাবে পিছিয়ে থাকা ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য কার্যকর যোগাযোগব্যবস্থা।
বর্তমানে তিনি গবেষণা ও শিক্ষাদানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। আগামী আগস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস এ অ্যান্ড এম বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিউনিকেশন অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
পিএইচডি অর্জনের অনুভূতি জানাতে গিয়ে ড. শাকিল বলেন, এই সাফল্য কেবল তাঁর ব্যক্তিগত নয়; এটি তাঁর বাবা-মায়ের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন, ভালোবাসা ও ত্যাগের প্রতিফলন।
বিশেষ করে তাঁর মায়ের শিক্ষার প্রতি অদম্য বিশ্বাসই তাঁকে এ পথচলায় অনুপ্রাণিত করেছে।
তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, পেশা নির্বাচন করার সময় শুধু চাকরি বা আয়ের বিষয়টি নয়, নিজের আগ্রহ ও লক্ষ্যকেও গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
তাঁর বিশ্বাস, যে কাজ ভালোবেসে করা যায়, দীর্ঘমেয়াদে সফলতা সেখানেই আসে।
টেক্সটাইল প্রকৌশলী থেকে সাংবাদিকতা, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন খাত এবং পরবর্তীতে গবেষণা ও শিক্ষকতায় প্রতিষ্ঠা—ড. শাকিল ফয়জুল্লাহর জীবনপথ নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার একটি উদাহরণ।
এসআর