জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হওয়া বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক বরিশাল পত্রিকা–এর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আবু উবাইদার ঘটনায় দুই বছর পেরিয়ে গেলেও বিচার প্রক্রিয়া শেষ হয়নি।
এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্টরা।
২০২৪ সালের ৪ জুলাই বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি গেটসংলগ্ন এলাকায় তথ্য সংগ্রহের সময় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী তার ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও তাকে মারধর করা হয়, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে ধারণ করা ভিডিও মুছে ফেলা হয় এবং পরবর্তীতে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়।
ঘটনার দুদিন পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়। পরে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও তদন্ত কার্যক্রম নানা কারণে দীর্ঘায়িত হয়। প্রথম আহ্বায়ক বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য চলে গেলে নতুন আহ্বায়ক নিয়োগ দিয়ে তদন্ত পুনরায় শুরু করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ মাস আগে তদন্ত প্রতিবেদন প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হলেও এখনো কোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তদন্ত কমিটির সদস্য ও গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ইমরান হোসাইন বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন যথাসময়ে জমা দেওয়া হয়েছে। এখন পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের।
এদিকে, হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের একজনের বিরুদ্ধে একই দিনে আরেক আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীর ওপর হামলার অভিযোগও রয়েছে। সেই অভিযোগেরও এখন পর্যন্ত নিষ্পত্তি হয়নি বলে জানা গেছে।
বরিশাল জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও দৈনিক নয়া দিগন্ত–এর ব্যুরো প্রধান আযাদ আলাউদ্দীন বলেন, জুলাই আন্দোলনে সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিচার বিলম্বিত হওয়া হতাশাজনক। তিনি নিহতদের পরিবারের সহায়তা এবং আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, আবু উবাইদার জন্য বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে এককালীন আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছিল। সরকার তাকে স্বীকৃতি দিলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিচারিক প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা গ্রহণযোগ্য নয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মেহেদী হাসান সোহাগ জানান, বিষয়টি বর্তমানে শৃঙ্খলা কমিটির বিবেচনায় রয়েছে। কমিটির সিদ্ধান্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মামুন অর রশিদ বলেন, তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে
এসআর