খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক ও সাহিত্যিক কাজী ইমদাদুল হকের সাহিত্যকর্ম এবং চিন্তাধারা নিয়ে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ডিসিপ্লিন ও বাংলা একাডেমির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ সেমিনারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘কাজী ইমদাদুল হকের সাহিত্যকর্ম: দিক ও দর্শন’।
শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ নম্বর একাডেমিক ভবনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকরা অংশ নেন। বক্তারা কাজী ইমদাদুল হকের জীবন, সাহিত্যচর্চা এবং সমাজভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হারুনর রশীদ খাঁন। তিনি বলেন, কাজী ইমদাদুল হক খুলনার পাইকগাছার কৃতী সন্তান। তাঁর সাহিত্য ও চিন্তাধারা নিয়ে এমন আয়োজন নতুন প্রজন্মকে ইতিহাস ও সাহিত্য সম্পর্কে সমৃদ্ধ করবে। তিনি আরও বলেন, তাঁর লেখায় তৎকালীন মুসলিম সমাজের কুসংস্কার, শিক্ষাবঞ্চনা ও সামাজিক পশ্চাৎপদতার বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলা একাডেমির গ্রন্থাগারিক ও সহকারী সম্পাদক আসাদ আহমেদ বলেন, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় বাংলা একাডেমি গুণী ব্যক্তিদের জীবন, সাহিত্য ও চিন্তাধারা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের সেমিনারের আয়োজন করছে। এর মাধ্যমে গবেষণা ও সাহিত্যচর্চার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলা ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক ড. আসমা ইয়াসমিন রুনা এবং সহকারী অধ্যাপক অন্তরা বিশ্বাস। অন্তরা বিশ্বাস তাঁর উপস্থাপনায় বলেন, কাজী ইমদাদুল হকের সাহিত্য ঔপনিবেশিক বাংলার মুসলিম সমাজের শিক্ষা, আত্মপরিচয় ও সামাজিক সংকটকে গভীরভাবে তুলে ধরে। তাঁর রচনায় সাহিত্যকে সমাজ পরিবর্তনের কার্যকর মাধ্যম হিসেবে দেখা যায়।
অন্যদিকে ড. আসমা ইয়াসমিন রুনা তাঁর প্রবন্ধে ‘আব্দুল্লাহ’ উপন্যাসের আলোকে লেখকের সমাজচেতনা বিশ্লেষণ করেন। তিনি তুলে ধরেন, কাজী ইমদাদুল হক তাঁর লেখায় শিক্ষার প্রসার, মানবিক মূল্যবোধ এবং সামাজিক সচেতনতার গুরুত্বের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. নুরুন্নবী উপস্থিত ছিলেন। সহকারী অধ্যাপক শাকিলা আলমের সঞ্চালনায় আয়োজিত সেমিনারে বাংলা ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. শেখ রজিকুল ইসলাম ও সহযোগী অধ্যাপক ড. ইমরান কামালও আলোচনায় অংশ নেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলা ডিসিপ্লিনের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. দুলাল হোসেন।
এসআর