জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কেন্দ্রীয় মন্দিরে অনুষ্ঠিত একটি সাধারণসভাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাংবাদিকসহ কয়েকজন শিক্ষার্থীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (২৭ জুন) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, সভা চলাকালে একটি বিষয় নিয়ে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়।
একপর্যায়ে অর্ঘ্যশ্রেষ্ঠ দাস ও চন্দন কুমার দাসের নেতৃত্বে কয়েকজন বহিরাগত এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯তম ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থী জবি রিপোর্টার্স ইউনিটির সদস্য ও দৈনিক নাগরিক ভাবনা-এর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি অপূর্ব রায়ের ওপর হামলার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্তদের মধ্যে ১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী প্রত্যয় চৌধুরী প্রথমে অপূর্ব রায়কে থাপ্পড় মারেন। পরে শুভ নাথ ও প্রান্ত নামে আরও দুই শিক্ষার্থী দেশীয় অস্ত্র ও বাঁশ নিয়ে হামলার চেষ্টা করেন।
এ সময় উপস্থিত অন্য শিক্ষার্থীরা বাধা দিতে এগিয়ে এলে তাদের সঙ্গেও ধস্তাধস্তি হয়। এতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্র ফোরামের সদস্য সচিব জয় সাহা আহত হন।
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা আহত সাংবাদিক অপূর্ব রায়কে নিরাপদে তার বাসায় পৌঁছে দেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. নঈম সিদ্দিকী বলেন, “আহত শিক্ষার্থীকে নিরাপদে বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
লিখিত অভিযোগ পেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আহত সাংবাদিক অপূর্ব রায় দাবি করেন, পূর্বের একটি ঘটনার জের ধরে তার ওপর এ হামলার চেষ্টা করা হয়।
তার অভিযোগ, অর্ঘ্যশ্রেষ্ঠ দাস ও চন্দন কুমার দাসের সঙ্গে থাকা প্রত্যয় চৌধুরী তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করেন এবং শুভ নাথ বাঁশ নিয়ে তার দিকে তেড়ে আসেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর দাবি, এর আগেও অর্ঘ্যশ্রেষ্ঠ দাস ও চন্দন কুমার দাসের বিরুদ্ধে বহিরাগতদের সঙ্গে নিয়ে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের হেনস্তা ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছিল।
তারা বর্তমান ঘটনার পাশাপাশি আগের অভিযোগগুলোরও সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এসআর