জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় গেট সংলগ্ন এলাকায় একটি ছোট পানের দোকান পরিচালনা করে জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে শিশু সাদ্দাম।
অল্প বয়সেই পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেওয়া এই শিশুর সংগ্রামের গল্প সম্প্রতি বিভিন্ন মহলে আলোচনার জন্ম দেয়।
জানা যায়, প্রায় ১০ বছর বয়সী সাদ্দাম তার মা ও চার ভাইবোনের ভরণপোষণে সহায়তা করছে। পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী না থাকায় ছোটবেলা থেকেই তাকে কাজের সঙ্গে যুক্ত হতে হয়েছে। তার বড় ভাইও শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারেন না।
সাদ্দামের জীবনসংগ্রামের বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর তার খোঁজ নিতে এগিয়ে আসেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শাহরিয়ার হোসেন। রোববার তিনি সাদ্দামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানেন এবং ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
এ সময় শাহরিয়ার হোসেন বলেন, ছোট বয়সে একজন শিশুর পরিবারের দায়িত্ব বহন করা অত্যন্ত কষ্টের বিষয়। এমন শিশুদের প্রতি সমাজের সচেতন ও সামর্থ্যবান মানুষের সহমর্মিতা দেখানো প্রয়োজন। তিনি ভবিষ্যতেও সাদ্দামের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, অর্থনৈতিক সংকটের কারণে অনেক শিশুই তাদের স্বাভাবিক শৈশব ও শিক্ষাজীবন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এসব শিশুর জন্য সমাজের সকল স্তরের মানুষের এগিয়ে আসা জরুরি।
সংগঠনটির সদস্য সচিব শামসুল আরেফিনও মানবিক সহায়তার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কল্যাণে ব্যক্তি ও সামাজিক উদ্যোগ বাড়ানো প্রয়োজন। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে তাদের জন্য একটি নিরাপদ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব।
সহায়তা পেয়ে সাদ্দাম ও তার পরিবারের সদস্যরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তারা আশা করছেন, সমাজের আরও মানুষ এ ধরনের অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ালে তাদের জীবনযাত্রার কষ্ট অনেকটাই কমে আসবে।
এসআর