খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন হয়রানির অভিযোগকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন।
এ সময় তারা অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও স্থায়ী অপসারণের দাবি জানান।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদি চত্বরে এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। প্রতিবাদ সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সমাবেশ শেষে শিক্ষার্থীরা প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে অভিযুক্ত শিক্ষকের কুশপুত্তলিকা দহন করেন। কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের যৌন হয়রানি বা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।
এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের কয়েকজন শিক্ষার্থী বক্তব্যে বলেন, অতীতে বিভিন্ন ঘটনায় সাময়িক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও এবার তারা স্থায়ী ও কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে চান। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রশ্নে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া উচিত নয় বলেও তারা মন্তব্য করেন।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ওই ডিসিপ্লিনের এক শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনাকাঙ্ক্ষিত ও অশোভন বার্তা পাঠানোর অভিযোগ উত্থাপন করেন। পরে আরও কয়েকজন শিক্ষার্থীও একই ধরনের অভিযোগ সামনে আনেন। বিষয়টি তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ শুরু করেছে।
এদিকে অভিযোগ ওঠার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অভিযুক্ত শিক্ষককে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। তবে তিনি নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট অন্য কেউ ব্যবহার করে থাকতে পারে। শিক্ষার্থীদের একটি অংশ অবশ্য এ বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছে এবং তাদের অবস্থানের পক্ষে বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করেছে।
বর্তমানে ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে সংশ্লিষ্ট সবাই নজর রাখছে।
এসআর